তানজিন তিশার সদস্যপদ স্থগিত, ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ ঝাড়লেন অভিনেত্রী

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৩

শুটিং সেটে বিরোধ, মারধরের অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈয়ের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ, বাংলাদেশ। এ সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর ফেসবুক লাইভে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তানজিন তিশা। প্রায় ২৫ মিনিটের লাইভে গত আট মাসের বিভিন্ন ঘটনা, শুটিং সেটের বিরোধ এবং সংগঠনের সালিশ বৈঠক নিয়ে কথা বলেন তিনি।

গত রোববার (৪ অক্টোবর) পৃথক চিঠির মাধ্যমে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈকে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানায় অভিনয়শিল্পী সংঘ। তবে গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানিয়েছেন, দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি।

চিঠিতে বলা হয়, গত ৭ জুলাই সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে দুই অভিনেত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউই নোটিশের জবাব দেননি। পরে কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় তাদের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে ফেসবুক লাইভে তিশা বলেন, কাজ করতে গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে মতবিরোধ হতেই পারে। তবে সেই বিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে প্রকাশ করে কাউকে হেয় করা কিংবা তার পেশাগত ক্ষতি করা উচিত নয়। গত এক বছরে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী বলেন, ‘শাড়িকাণ্ডসহ অনেক কিছু দেখলাম। আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে। আমি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।’

গত মার্চে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিং সেটে সামিয়া অথৈয়ের সঙ্গে বিরোধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিশা। তার দাবি, সেদিন শুটিং সেটে কী ঘটেছিল, তা উপস্থিত সবাই দেখেছেন। নাটকের দৃশ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দৃশ্যটি দেখলেই বোঝা যাবে কে আসলে ইম্প্রোভাইজ করেছেন। নির্যাতনের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও দর্শকেরা বুঝতে পারবেন।

তিশা জানান, ঘটনার পর অভিনয়শিল্পী সংঘের উদ্যোগে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্তের লিখিত নোটিশও তার কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।

সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুই পক্ষকে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভিডিও বার্তা পাঠাতে বলা হয়েছিল। তবে অথৈ ভিডিও বার্তা দেননি। বিশেষ কারণে তিনিও তা পাঠাতে পারেননি বলে জানান তিশা।

 

ইত্তেফাক/এসএ