আট বছর নারীর ছদ্মবেশে, শেষ পর্যন্ত আঙুলের ছাপে ধরা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২১:২৩

ডাকাতির মামলায় কারাদণ্ড এড়াতে আট বছর ধরে নারীর ছদ্মবেশে ছিলেন তুরস্কের এক ব্যক্তি। নিজের চেহারা ও পরিচয় বদলে বোনের পরিচয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের নজরদারি ও আঙুলের ছাপ পরীক্ষায় ধরা পড়ে যায় তার আসল পরিচয়।

ওই ব্যক্তির নাম তুঘরুল বাশার। ২০১০ সালে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে তিনটি ডাকাতির ঘটনায় আদালত তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। কিন্তু কারাগারে যাওয়া এড়াতে ২০১৮ সাল থেকে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। এরপর থেকেই তাকে খুঁজছিল পুলিশ।

সম্প্রতি ইস্তাম্বুলের কাদিকয় জেলায় পলাতক আসামিদের ধরতে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের একপর্যায়ে বাশারকে আটক করা হয়। তবে তার চেহারায় বড় ধরনের পরিবর্তন এবং নারীর ছদ্মবেশের কারণে শুরুতে তাকে শনাক্ত করতে পারেননি পুলিশ সদস্যরা।

তদন্তকারীদের নজরে আসে, বাশারের বোনের বাড়িতে একই পরিচয়ে দুই তরুণী যাতায়াত করছেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাদের ওপর নজরদারি শুরু করেন তারা। পরে আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন, তাদের একজন আসলে পলাতক আসামি বাশার।

দীর্ঘদিনে বাশারের চেহারায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ফলে পুরোনো ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে তিনি মেকআপ ও ছদ্মবেশের আশ্রয় নিয়েছিলেন, নাকি লিঙ্গ পরিবর্তন করেছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গ্রেপ্তারের সময় বাশারের কাছে তার বোনের পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। তবে আঙুলের ছাপ পরীক্ষায় তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।

তুরস্কের নাগরিক নিবন্ধন ব্যবস্থায় নিজের নাম বা লিঙ্গ পরিবর্তনের কোনো নথি না থাকায় তাকে পুরুষ হিসেবেই কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আট বছর ধরে ছদ্মবেশে আত্মগোপনে থেকেও শেষ পর্যন্ত কারাদণ্ড এড়াতে পারলেন না বাশার।

 
ইত্তেফাক/এমএএম