যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন থেকেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় দেশটির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই দলের কৌশল ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত ইলেকটোরাল কলেজ ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে অন্তত ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই লক্ষ্য অর্জনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
অন্যদিকে, ভোটের ফলাফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে। ফলে রিপাবলিকান পার্টির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন বা মাগা আন্দোলনের সমর্থকদের ঐক্য ধরে রাখা। একই সঙ্গে দলের নির্বাচনী কৌশলে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
যদিও দুই দলের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার শুরু করেনি, তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ইতিমধ্যে জোরালো হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের পর ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান শিবিরে যাদের নাম সামনে আসছে, তাদের কয়েকজন হলেন—
ডেমোক্র্যাট শিবিরের সম্ভাব্য প্রার্থী

জশ শ্যাপিরো
পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শ্যাপিরোর রাজনৈতিক অবস্থান মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আরও শক্তিশালী হয়েছে। ২০ শতাংশের বেশি ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি তার অঙ্গরাজ্যে প্রতিনিধি পরিষদের চারটি আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পেনসিলভানিয়া বরাবরই দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য। সেখানে শ্যাপিরোর বড় ব্যবধানে জয় ২০২৮ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। এত দিন প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি তিনি। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সাফল্যের পর বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
রাফায়েল ওয়ার্নক
জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর রাফায়েল ওয়ার্নক রাজনীতির পাশাপাশি একজন খ্রিষ্টান ধর্মযাজক হিসেবেও পরিচিত। দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন ডেমোক্র্যাটদের জন্য নির্বাচনী সাফল্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ওয়ার্নক দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হয়ে উঠতে পারেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচার চালিয়েছেন তিনি। নির্বাচনের আগে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২০২৮ সালে একটি ‘উচ্চ পদে’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। তবে সেটি সিনেটের আসন, নাকি প্রেসিডেন্ট পদ—তা স্পষ্ট করেননি।
গ্যাভিন নিউসম
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমও ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। টেক্সাসে প্রতিনিধি পরিষদের আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর পাল্টা উদ্যোগ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়াতেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেন তিনি। এ উদ্যোগে ভোটারদের অনুমোদন পাওয়ার পর প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের অতিরিক্ত পাঁচটি আসন পাওয়ার পেছনেও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরতে পারেন নিউসম। গভর্নর হিসেবে তার মেয়াদ শেষের দিকে। এর মধ্যে অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৫৪৮ জনের সাজা কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মৃত্যুদণ্ডের প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে নিজের ভিন্নতা তুলে ধরেছেন নিউসম।
পিট বুটিগেগ
ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিগেগের নামও রয়েছে। ইন্ডিয়ানার সাউথ বেন্ড শহরের সাবেক মেয়র হিসেবে তার স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের যেসব এলাকায় দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে, সেসব এলাকার ভোটারদের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে ৩৮টি অঙ্গরাজ্য সফর করেছেন বুটিগেগ। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে তার পরিচিতি ও সমর্থন বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেবি প্রিৎসকার
ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিৎসকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে সহজেই পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তবে জাতীয় রাজনীতিতে তার প্রভাবের বড় দিক ছিল নির্বাচনী প্রচারে অর্থায়ন। যেসব আসনে অর্থের অভাবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল, সেগুলোতে সহায়তা দিয়েছেন তিনি।
টেক্সাসের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোহোসার প্রচারে অর্থসংকট দেখা দিলে তাকে সহায়তা করেন প্রিৎসকার। নির্বাচনী ফলাফলে এ ধরনের আর্থিক সহায়তার ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। ফলে দলের ভেতরে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
অ্যান্ডি বেশিয়ার
রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কেন্টাকির ডেমোক্র্যাট গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ারও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তার নেতৃত্বাধীন ডেমোক্রেটিক গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশন ওহাইও, আইওয়া, কানসাস ও টেক্সাসে দলীয় প্রার্থীদের গভর্নর নির্বাচনে জয় পেতে সহায়তা করেছে।
তবে টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোহোসার নির্বাচনী প্রচারে যথেষ্ট সহযোগিতা না করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের তুলনায় বেশিয়ার অনেক কম অর্থ ব্যয় করেছেন বলেও সমালোচনা রয়েছে। অন্যদিকে, কেন্টাকিতে প্রতিনিধি পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন ডেমোক্র্যাটরা পুনরুদ্ধার করলেও সিনেটের আসনটি রিপাবলিকানদের দখলেই রয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নতুন করে সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতি বেশিয়ারের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। নির্বাচনের পরদিন সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সবকিছুকে ডেমোক্র্যাট বনাম রিপাবলিকান কিংবা আমরা বনাম তারা হিসেবে দেখা যায় না।
কমলা হ্যারিস
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস আবারও ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন চাইবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে প্রার্থী হতে চাইলে দলের ভেতরে নতুন করে সমর্থন গড়ে তোলাই হবে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচারের ক্ষেত্রে কৌশলী ভূমিকা রেখেছেন হ্যারিস। মিসিসিপিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কলমের জয়ের সম্ভাবনা কম মনে হলেও তার নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন তিনি। মিশিগানে আবদুল আল-সাইয়েদের পক্ষেও প্রচার চালান। দলের প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে আল-সাইয়েদের সমর্থন তুলনামূলক কম থাকলেও মূল নির্বাচনে তারা তার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ
নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল অংশের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা। বিশেষ করে তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে আবদুল আল-সাইয়েদের মতো প্রার্থীদের পক্ষে বিভিন্ন সমাবেশে অংশ নিয়েছেন তিনি।
গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচিত ওকাসিও-কর্টেজ সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিষয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আগের তুলনায় নমনীয় করেছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতে মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য দলের আসনসংখ্যা বাড়াতে সহায়তা করেছে। এ প্রেক্ষাপটে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তনও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
জন অসফ
জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফকে অনেকেই সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে তুলনা করছেন। দক্ষিণাঞ্চলে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। যদিও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ নেই বলে একাধিকবার জানিয়েছেন, তবু তাকে নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
জর্জিয়ায় কেইশা ল্যান্স বটমস গভর্নর নির্বাচিত হওয়ায় অসফ ভবিষ্যতে সিনেটের আসন ছেড়ে দিলে সেখানে একজন ডেমোক্র্যাটকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
রাম ইমানুয়েল
শিকাগোর সাবেক মেয়র এবং বারাক ওবামার প্রশাসনে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাম ইমানুয়েলও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি টেলিভিশন আলোচনায় সক্রিয় হয়েছেন।
শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, মধ্যপন্থী নীতি অনুসরণ এবং বাস্তবভিত্তিক ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীদের তুলনায় বয়সে এগিয়ে থাকলেও নিজের রাজনৈতিক বক্তব্য আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন ইমানুয়েল।
রিপাবলিকান শিবিরের সম্ভাব্য প্রার্থী
জেডি ভ্যান্স
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ইরান যুদ্ধকে পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ভ্যান্সের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধে না গিয়ে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ‘ট্রাম্প-ভ্যান্স’ সমর্থকদের আবারও ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব হতে পারে। ট্রাম্পের সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে এখনো এগিয়ে রয়েছেন ভ্যান্স। তবে দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও নির্বাচনী ব্যর্থতার প্রভাব কাটিয়ে ওঠা তার জন্য সহজ হবে না।
রন ডিস্যান্টিস
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসও রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের মধ্যেও ফ্লোরিডায় নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে রিপাবলিকানরা। অঙ্গরাজ্যটিতে সিনেট ও গভর্নর—দুই নির্বাচনেই জয় পেয়েছেন দলটির প্রার্থীরা।
সিএনএনের জেক ট্যাপারের সঙ্গে আলাপকালে ডিস্যান্টিস বলেন, ফ্লোরিডায়ও রিপাবলিকানরা পরাজিত হলে দলের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠত। নিউসমের মতো ডিস্যান্টিসও জানুয়ারিতে গভর্নরের দায়িত্ব ছাড়বেন। তবে তার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনো শেষ হয়নি।
মার্কো রুবিও
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েকটি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। তবে পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় দলীয় প্রচারে তাকে খুব বেশি সক্রিয় দেখা যায়নি। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের দায় তার ওপর তুলনামূলক কম পড়তে পারে।
রিপাবলিকানদের একটি অংশের মধ্যে রুবিওর জনপ্রিয়তা রয়েছে। কানসাসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নিজেও রুবিওর জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি তাকে বরখাস্ত করার কথা বলে রসিকতাও করেন। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে রুবিওকে বর্তমান প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে ভ্যান্সের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
টেড ক্রুজ
টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজও রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন ক্রুজ। কিন্তু তদের অনেকেই পরাজিত হয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে দলের প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থন পাওয়া তার জন্য কঠিন হতে পারে।
পিট হেগসেথ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে তাকে ঘিরে বিতর্ক এবং অভিশংসনের সম্ভাবনা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে এ বিষয়ে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে। এমনকি রিপাবলিকানদের একটি অংশও তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে।
ইরান যুদ্ধের সঙ্গে হেগসেথের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা রয়েছে। এই যুদ্ধ যদি কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে থাকে, তাহলে তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ভোটারদের মধ্যে মধ্যপন্থী ও সমঝোতাপূর্ণ নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সে ক্ষেত্রে নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি বদলানোও হেগসেথের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
সারা হাকাবি স্যান্ডার্স
আরকানসাসের গভর্নর সারা হাকাবি স্যান্ডার্স মধ্যবর্তী নির্বাচনে সহজেই পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্যান্ডার্সের প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
তার বাবা মাইক হাকাবি একসময় আরকানসাসের গভর্নর ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অতীতে রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে আইওয়ায় ভালো অবস্থান তৈরি করেছিলেন মাইক হাকাবি। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচিতি ও নিজের নির্বাচনী সাফল্য স্যান্ডার্সকে ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আলোচনায় রাখতে পারে।
টাকার কার্লসন
রক্ষণশীল ধারার জনপ্রিয় ভাষ্যকার টাকার কার্লসনও রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন। ইরান যুদ্ধকে ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক বোঝা হিসেবে শুরু থেকেই সমালোচনা করে আসছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে ভ্যান্সও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
প্রধান দুই দলের বাইরে থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন কার্লসন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় থাকলেও নির্বাচনে অংশ নিলে ট্রাম্পের মাগা সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনো বেশ দূরে থাকলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ডেমোক্র্যাটদের সামনে যেমন মধ্যপন্থী ও প্রগতিশীল নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্ন রয়েছে, তেমনি রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ মাগা আন্দোলনের সমর্থকদের ঐক্য ধরে রাখা। শেষ পর্যন্ত কোন দল কাকে মনোনয়ন দেবে, তা নির্ভর করবে আগামী দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসমর্থন ও দলীয় অভ্যন্তরীণ সমীকরণের ওপর।
