সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেলেও একাদশ সাজাতে হিমশিম খাচ্ছেন কোচ থমাস ডুলি। আছে ইনজুরি প্রবণাতও। বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় তারকা হামজা চৌধুরীকে মাঠে মিস করছে বাংলাদেশ।
শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে কিংস অ্যারেনায় দলের অনুশীলনের পরিবেশ ছিল অন্য রকম। হালকা শীতের আমেজে শুরু থেকেই চলল সতীর্থদের খুনসুটি আর হুল্লোড়। এই ফুরফুরে মেজাজের ভিড়ে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন অধিনায়ক তপু বর্মন।
ভুটান ম্যাচের ঠিক আগে গা গরম করতে গিয়ে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ার হতাশা এখনো পুরোপুরি কাটেনি অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডারের। দলের মূল অনুশীলনে বল পায়ে নামেননি তিনি।
শুক্রবার খেলোয়াড়দের রিকভারির সুযোগ দিয়ে গতকাল থেকে লঙ্কানদের মোকাবিলার ছক কষতে শুরু করেছেন কোচ টমাস ডুলি। আর কোচের সেই পরিকল্পনায় দলের বড় স্বস্তি হয়ে ফিরছেন শেখ মোরসালিন। জ্বরে ভুগে প্রথম ম্যাচে ডাগআউটে বসে থাকা এই তরুণ ফরোয়ার্ড এখন পুরোপুরি বিপন্মুক্ত। অনুশীলনের শুরুতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে দলের ভেতরের মেজাজ আর নিজের ফেরার বার্তায় কোনো লুকোছাপা করেননি তিনি।
শ্রীলঙ্কা ম্যাচ সামনে রেখে মোরসালিনের কণ্ঠে ভেসে এল চনমনে আত্মবিশ্বাস, ‘যেহেতু আমরা শুরুটা ভালো করেছি, প্রথম ম্যাচ জিতেছি। আশা করছি, দ্বিতীয় ম্যাচও জিতব ইনশা আল্লাহ। আমরা তো আত্মবিশ্বাসী। যেহেতু দেশের মাটিতে খেলা, আমাদের জিততেই হবে।’
নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিলেন এই ফরোয়ার্ড, ‘আমার চোট ছিল না, একটু জ্বর ছিল...আরও চার-পাঁচ দিন আগে রিকভার করে ফেলছি আলহামদুলিল্লাহ। এখন শতভাগ ফিট। আশা করছি, সুযোগ পেলে ভালো করব।’
ভুটানের বিপক্ষে একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় স্কোরলাইন বড় করতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও মোরসালিন বিষয়টি দেখছেন ভিন্নভাবে। তার মতে, বড় ব্যবধানে না জেতা দলের ভেতরে আত্মতুষ্টি জমতে দেয়নি।
দলের মনস্তত্ত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘একদিক থেকে আমি মনে করি যে ভালো হয়েছে। কেননা, অনেক সময় হয়, অনেক বেশি গোল দিয়ে ফেললে বডি রিল্যাক্স হয়ে যায়। তাই ওই দিক থেকে যে আমাদের ওই...মানে আমরা সবাই এখনো খুব ক্ষুধার্ত হয়ে আছি। আমরা পরের ম্যাচে সেই ক্ষুধা নিয়ে খেলতে নামতে পারব।’
বুধবার ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে লঙ্কানদের মুখোমুখি হবেন টমাস ডুলির শিষ্যরা। এর আগে কাল দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন প্রবাসী দুই তারকা হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদ। তাতে দলের আত্মবিশ্বাস আরও উঁচুতে উঠবে বলে মনে করেন মোরসালিন, ‘আমরা অবশ্যই এটা নিয়ে খুবই আশাবাদী। হামজা ভাই তারপরে ফারহান, ওরা এলে আমাদের মানে টিমের যে স্পিরিট ছিল, তা আরও বাড়বে ইনশা আল্লাহ।’
ভুটান ম্যাচে নাম্বার নাইন হিসেবে খেলেছেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। যদিও কোচ টমাস ডুলির সেই ফাটকা কাজে লাগেনি। সাফের মতো টুর্নামেন্টকে তিনি বানিয়েছেন পরীক্ষার মঞ্চ।
মোরসালিনও সায় দিচ্ছেন কোচের কথাতেই, ‘আমাদের তো আসলে নাম্বার নাইনের সমস্যা অনেক দিনের। এটা সবাই জানে। কিন্তু আমরা যখন যেখানেই সুযোগ পাই...দেখা গেল আমি মিডফিল্ডে, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে অনেক সময় খেলেছি। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমাকে কোচ যেখানেই সুযোগ দেবেন, আমি সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। বিশ্বনাথ দাদাও সেই চেষ্টা করেছেন।’
