মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি ম্যাচে দুই দিনে উইকেট পড়েছে ২০টি। যার মধ্যে পেসাররা ১৩টি ও স্পিনাররা ৭টি উইকেট নিয়েছেন। প্রথম দিনে পেসাররা ৮টি, স্পিনাররা ২টি উইকেট নিয়েছিলেন। গতকাল পেস-স্পিনে ভাগ হয়েছে উইকেট, ৫টি করে। নিছক প্রস্তুতি বলেই হয়তো এই ম্যাচের আবহ থেকে চট্টগ্রামে ৫ সেপ্টেম্বর শুরু হতে চলা বাংলাদেশ-আফগানিস্তান একমাত্র টেস্টে স্বাগতিকদের কৌশল নিয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়ার অবকাশ কম।
তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, স্পিন নির্ভরতার বলয় থেকে বের হচ্ছে না বাংলাদেশ। আফগানদের বিরুদ্ধেও স্পিনের সর্বগ্রাসী আক্রমণ নিয়েই মাঠে নামবে সাকিব আল হাসানের দল। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান এশিয়ার দল হলেও স্পিন জাদুতেই ভরসা খুঁজছে বাংলাদেশ। আফগান শিবিরেও দুরন্ত কয়েকজন স্পিনার রয়েছেন। রশিদ খানদের নিয়ে ভীত নয় বাংলাদেশ দল। বরং স্পিনেই আফগানদের ঘায়েল করে চট্টগ্রামে টেস্ট জিততে চায় সাকিব বাহিনী।
এজন্যই বাংলাদেশের টেস্ট দলেও স্পিনারদের আধিক্য। অধিনায়ক সাকিব ছাড়াও স্বীকৃত স্পিনার আছেন তিন জন। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম, অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান আছেন। এইচপি দলের হয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে থাকা নাঈম হাসানকে উড়িয়ে আনা হয়েছে ঢাকায়। গতকাল মিরপুরে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এই তরুণ। আজ সাকিবদের সঙ্গে হোমটাউন চট্টগ্রামে যাবেন নাঈম।
মিরাজের আঙ্গুলে হালকা চোট থাকলেও জোর সম্ভাবনা আছে আফগানদের পেছনে লেলিয়ে দেওয়া হবে চার স্পিনার। যদিও গতকাল জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানালেন, কৌশলগত এমন সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। দল চট্টগ্রামে যাওয়ার পর উইকেট, কন্ডিশন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত শুক্রবার বিকালে দলে বেশি স্পিনার নেওয়ার বিষয়ে প্রধান নির্বাচক বলেছিলেন, ‘যেটি হয়ে আসছে যে স্পিনে আধিক্য সবসময় আমরা করে এসেছি। বেশি স্পিনারদের নিয়ে আমরা খেলেছি। আমরা পেসারদেরও রেখেছি।’
চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের কিউরেটরদের কাছেও এখনো কোনো বার্তা পাঠায়নি বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। গতকাল সন্ধ্যায় এমনটাই দাবি করলো বিসিবির বিশ্বস্ত সূত্র।
তবে জাতীয় দলের নতুন পেস বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্টের কথায় স্পষ্ট, স্পিনেই ভরসা করছে বাংলাদেশ। প্রোটিয়া এই কোচ ধরেই নিয়েছেন চট্টগ্রাম টেস্টে খেলবে এক পেসার। যদিও দলে আছেন তিন পেসার। শেষ পর্যন্ত একাদশে একজন পেসার বাড়লেও স্পিনই থাকবে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের মূল অস্ত্র।
একাদশে পেসার এক জন থাকলে, তাকেই প্রস্তুত করবেন ল্যাঙ্গেভেল্ট। পেসার কম-বেশি খেলানোর বিষয়টি অধিনায়ক সাকিবের সিদ্ধান্ত বলেই জানালেন তিনি। গতকাল ল্যাঙ্গেভেল্ট বলেছেন, ‘আমি এখানে এসেছি, খেলেছি। আমি জানি এসব কন্ডিশন পেসারদের জন্য কঠিন। আমাদের (দক্ষিণ আফ্রিকা) পেসাররাও সংগ্রাম করেছিল এখানে যখন এখানে আমরা টেস্ট খেলতে এসেছিলাম শেষবার। এটা পুরোপুরি অধিনায়কের বিষয়। অধিনায়ক বলছে, সে এক জন পেসার নিয়ে খেলবে। আমার কাজ হলো, তাকে প্রস্তুত করা। যদি তারা খেলে, আমাদের কাজ তাদের খেলাটা নিশ্চিত করা।’
তবে পেস বোলিং কোচ হিসেবে টেস্টের একাদশে একাধিক পেসার দেখতেই পছন্দ করবেন ল্যাঙ্গেভেল্ট। গতকাল প্রোটিয়া এই কোচ বলেছেন, ‘আমি এক জন ফাস্ট বোলার এবং আমি দলে সবসময়ই বেশি পেসার চাই। কিন্তু কিছুদিন আপনাকে অবশ্যই কন্ডিশন বুঝতে হবে এবং কন্ডিশন অনুসারেই আপনাকে খেলতে হবে। যদি অধিনায়ক অনুভব করেন যে কয়েকজন সিমার খেলাবেন সেটা পুরোপুরি সাকিবের ব্যাপার।’
ইত্তেফাক/এমআই
