আরেক জাহালম হতে হতে বেঁচে গেলেন কামাল

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:৫৩

সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় পাটকল শ্রমিক জাহালম প্রায় তিন বছর বিনা অপরাধে কারাভোগ করেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। একইভাবে বিনা অপরাধে রাজধানীতে পুলিশি নির্যাতনের মুখে পড়েন কামাল হোসেন নামে এক মোটর মেকানিক। নাম আর বাবার নামে মিল থাকায় ২০০৯ সালের একটি মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতারের পর নির্যাতন চালানো হয়। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তার কাছে অর্থও দাবি করেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা।

অবশেষে গতকাল সোমবার ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। তারা হলেন মোহাম্মদপুর থানার এএসআই আলমগীর ও এএসআই জাকারিয়া। বিষয়টি ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ওয়াহেদুল ইসলাম। এই ঘটনার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

গত শুক্রবার বিকালে শ্যামলী রিং রোডের বাদশাহ ফয়সাল ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গলিতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় মোহাম্মদপুর থানার এএসআই জাকারিয়া মাদক মামলার আসামি হিসেবে মোটর মেকানিক কামাল হোসেনকে আটক করেন। রিং রোডে কামাল হোসেনের নিজের একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজ রয়েছে। বারবার নির্দোষ দাবি করলেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কামালকে থানায় আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে নির্যাতন করে ২০০৯ সালের একটি মাদক মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি কামাল হিসেবে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেন জাকারিয়া। দুই জনের বাবার নাম মনির। অথচ মায়ের নাম ও পেশা আলাদা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গভীর রাতে তাকে ছেড়ে দেয় থানা পুলিশ।

একদিন পর গত রবিবার রাতে কামাল হোসেনের গ্যারেজে হাজির হন অভিযানে অংশ নেওয়া থানার আরেক এএসআই আলমগীর। কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এএসআই আলমগীর আমার কাছে এসে বলেন, মামলা থেকে খারিজ পেতে চাইলে পুলিশকে খুশি করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আমাকে ঝামেলা পোহাতে হবে। তখন আমি তাকে বলেছি, আপনারা মূল আসামি ধরেন। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তার আর আমার এনআইডি নিয়ে মিলিয়ে দেখেন। তাহলেই বুঝতে পারবেন, গলদ কোথায়?’

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ওয়াহেদুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেয় ডিএমপি। প্রাথমিক তদন্তে তিনি দুই পুলিশ কর্মকর্তার অনৈতিক কাজের প্রমাণ পান। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে ডিসি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সোমবারের মধ্যেই প্রতিবেদন দেবে। তিনি বলেন, ‘টাকা চাওয়ার বিষয়টি এখনো প্রমাণিত হয়নি। তবে নিরীহ মেকানিক কামালকে আটকের ক্ষেত্রে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। দুই এএসআইকে ক্লোজড করা হয়েছে।’