লাগাতার অবরোধে স্থবির জাবি

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:২৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও টেন্ডার ছিনতাইকারীদের শাস্তিসহ তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম।

বুধবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন তারা। সকাল ৯টার দিকে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নূরুল আলম এবং পরে সকাল ১০টার দিকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা কোন আলোর মুখ দেখেনি। ফলে আন্দোলনকারীরা তাদের অবরোধ অব্যাহত রাখেন।

পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধের সমর্থনে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। বিকাল চারটার দিকে তারা অবরোধ স্থগিত করেন। 

এসময় জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান উপস্থিত আন্দোলনকারী ও সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘আমাদের তিন দফা দাবিতে প্রশাসনের কেউ কথা বলেননি। তাই আমাদের যৌক্তিক দাবিতে বৃহস্পতিবারও অবরোধ কর্মসূচি চলমান থাকবে।’

এ সময় দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, আমাদের দাবি দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত, টেন্ডার ছিনতাইকারীদের শাস্তি ও মাস্টারপ্ল্যান পুনবিন্যাস করা। যেহেতু উপাচার্যের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তাই আমাদের দাবি- মহামান্য আচার্য কর্তৃক গঠিত কমিটি দ্বারা এ বিষয়টির তদন্ত করা। যেহেতু আমাদের কোন দাবিই মানা হয়নি তাই যৌক্তিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নূরুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছি। আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্যকে আসতে বলেন। আমি তাদের দাবির বিষয়টি উপাচার্যকে জানিয়েছি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত তিনিই (উপাচার্য) নেবেন।’

এ বিষয়ে জানতে উপাচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/জেডএইচ