চতুর্দিক থেকে বিপদ ঘনিয়ে আসছে, সতর্ক থাকুন: ফখরুল

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:৫১

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শুধু রোহিঙ্গা সমস্যা নয়। সামনে আরও বিপদ আসছে। চোখ বন্ধ করে থাকলে হবে না। উট পাখি কী করে? যখন মরুভূমিতে ঝড় আসে তখন মাথাটা বালুর মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে ভাবে যে সব থেমে গেল। কিন্তু তাতে মরুভূমির ঝড় বন্ধ হয় না। আজকে সরকার মাথা নিচু করে বসে আছে। কিন্তু এতে রক্ষা হবে না। কারণ চতুর্দিক থেকে বিপদ ঘনিয়ে আসছে।

ভারতের আসামের নাগরিকপুঞ্জির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আসামে যে এনআরসি তৈরি হয়েছে আমরা জানি না এটার মধ্যে কী আছে না আছে। আমরা এটুকু বুঝি যে, একটা বিপদ জানান দিচ্ছে। অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষকে সজাগ হতে হবে। বাংলাদেশের মানুষকেই তার স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে।

আরও পড়ুন: জিয়া ১৫ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড আর তারেক ২১ আগস্টের: ওবায়দুল কাদের

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১২তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম। সংগঠনের সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান আলিমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, কেন্দ্রীয় নেতা আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, মীর হেলাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রমুখ।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০০১ সালে যখন আমাদের জোট নির্বাচিত হয়  বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। তখন আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন যে, তিনি (শেখ হাসিনা) গ্যাস রফতানির চুক্তিতে সই করেননি বলে পরাজিত হয়েছেন। অথচ মঙ্গলবার সেই গ্যাস রফতানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।  

ফখরুল বলেন,বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক বাজারে পরিণত করা হয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সবকিছু জলাঞ্জলি দিচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য, রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অতীতের মতো এখনো ষড়যন্ত্র চলছে।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা নির্যাতিত হচ্ছেন জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন,কোনো একটা দল দেখান তো দেখি যেখানে ২৬ লাখ লোক আসামি, ১ লাখের ওপরে মামলা। নেতা-কর্মীদের পঙ্গু করে ফেলা হচ্ছে। তবে বিএনপির অনুসারীদের হতাশ ও বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এক আছি, এক থাকব।

বর্তমান ‘সংকট’ শুধু বিএনপির নয়, জাতির সংকট বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার ব্যর্থ। সরকারের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো তাদের পাশে নেই।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেনকে ফের কারাগারে পাঠানোর সমালোচনা করে এর নিন্দা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি সব ধরনের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি করেন।

তারেক রহমান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমান অল্প সময়ের মধ্যে নেতৃত্বের সমস্ত গুণাবলি অর্জন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে দল বিকশিত হচ্ছে এবং বিএনপি এগিয়ে যাবে।

ছাত্রদলের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন,পদের জন্য রাজনীতি করো না। দেশের জন্য, মানুষের জন্য রাজনীতি করো। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজনীতি করো।

ফখরুল বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, মানুষ ভোট দিতে পারেনি। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। মানুষ ন্যায় বিচার পায় না, সামাজিক বিচার পায় না। তারা অসহায় হয়ে গেছে। রোহিঙ্গারা এসেছে এ দেশে, সেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি সরকার। কারণ তাদের যে প্রধান মিত্র ভারত ও চীন তারা মিয়ানমারের পক্ষে।

নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ৯ বছর আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি তারপরে বিজয় এসেছে। আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয় এনেছি। সুতরাং হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেউ হতাশ হবেন না। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের তরুণরা, যুবকরা কেউ হতাশ নন। তারা সংগ্রাম ও লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তারা দেশনেত্রীকে মুক্ত করবেন। গণতন্ত্রকে মুক্ত করবেন এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনবেন।

সরকারের উদ্দেশে তিন দফা দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান থেকে শুরু করে ২৬ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। নির্বাচনের (একাদশ সংসদ নির্বাচন) ফলাফল বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে। একটা স্বাধীন ও যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো, ধ্বংস্তুপ থেকেও বিএনপি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা এক এগারোর সময় বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল কিন্তু পারেননি। এরপর গুম খুন হত্যা করে মনে করেছিল বিএনপিকে শেষ করে দেবে। সেটাও তারা পারেনি। এদেশের মানুষ স্বাধীনতাকামী এই অন্যায় অত্যাচার সহ্য করেও তারা টিকে আছে। এটাই হচ্ছে বিএনপি।

ইত্তেফাক/এমআরএম