আসামিরা জামিনে ছাড়া পেয়ে দিচ্ছে বাদীকে হত্যার হুমকি

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:১৮

মোবাইল ফোনে মাত্র ১০০ টাকা লোড না দেওয়ায় দোকানদারকে পিটিয়ে হত্যা করে চার সন্ত্রাসী। গত ২৩ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার মীরের চানগাঁও এলাকার ওসমান গনির বিকাশ ও লোডের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

ওসমান গনিকে পিটিয়ে হত্যার পর চার সন্ত্রাসী ইকবাল, রুবেল, সোহেল ও রিপন মোল্লা পালিয়ে যায়। ঘটনার পর নিহতের বড়ো ভাই আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে এই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন) ইকবাল বাদে বাকি তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে।

মামলাটি তদন্ত করে পিবিআইয়ের পরিদর্শক নূরুননবী সরকার গত ২৮ জুলাই ঢাকার আদালতে চার জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে বলা হয়, ঘটনার দিন রাতে আসামি রুবেলের সঙ্গে ফ্ল্যাক্সিলোডের দোকানদার ওসমান গনির কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রুবেল তার তিন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ওসমান গনিকে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া করে সোহেলকে আটক করে পিটুনি দেয়। পরে পুলিশ রুবেল ও রিপন মোল্লাকে গ্রেফতার করতে পারলেও ইকবাল পলাতক রয়েছে।

সূত্র জানায়, চার্জশিট দাখিলের কয়েক দিন পর রুবেল ও রিপন মোল্লা জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পায়। এরপর থেকে অব্যাহতভাবে আসামিরা মামলার বাদীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। আসামিরা জামিনে ছাড়া পাওয়ার আগে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা মামলার বাদীকে হুমকি দেয় যে, ‘মামলা তুলে নেওয়া না হলে আশুলিয়ায় তাদের থাকতে তো দেওয়াই হবে না, উলটো যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই তাকে হত্যা করা হবে।’ গত ২ এপ্রিল মামলার বাদী আমিরুল ইসলাম আশুলিয়া থানায় একটি জিডি করেন।

মামলার বাদী আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতে চার্জশিট দেওয়ার পর থেকে সন্ত্রাসীরা আমাকে হুমকি দিতে থাকে। গত ৩১ আগস্ট রাতে আসামিরা বলে, ‘তোর আজকেই শেষ রাত। কাল যদি মীরের চানগাঁও এলাকায় দেখি, তাহলে ওখানেই তোর কল্লা নামিয়ে দেব।’ তিনি মীরের চানগাঁওয়ের মোল্লাবাড়ি এলাকায় সাড়ে ৬ কাঠা জমির ওপর টিনশেড বাড়ি নির্মাণ করে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন। সন্ত্রাসীদের হুমকিতে ঐ দিন রাতেই তিনি তার স্ত্রী, সন্তান এবং অপর দুই ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদেরসহ বাড়ির মালামাল নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠেন। ১ সেপ্টেম্বর থেকে তার বাড়িতে তালা ঝুলছে। পরদিন তিনি আশুলিয়া থানায় গিয়ে নিরাপত্তা চেয়ে আরো একটি জিডি করেন।

আশুলিয়া থানার ওসি শেখ রিজাউল হক দিপু বলেন, ‘মামলার বাদী তার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন। তাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।’

ইত্তেফাক/জেডএইচ