হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীরা তাদের সাহায্য করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন। গতকাল রবিবার হংকংয়ের মার্কিন কনস্যুলেটের দিকে মিছিল করে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে মার্কিন পতাকা দেখা যায়। কেউ কেউ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ সাত নেতার মুখোশ পরে হংকংয়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানান। অনেকে প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যামসহ শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞারও আহ্বান জানান। খবর বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের
মার্কিন পতাকা নিয়ে মিছিল
বিক্ষোভকারীদের বহন করা ব্যানারে লেখা ছিল : ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, প্লিজ হংকংকে রক্ষা করুন এবং হংকংকে আবার সোনার নগরীতে পরিণত করুন।’ তারা ঐ নগরটিকে চীনের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য স্লোগান দেন। তারা রাস্তার পাশের দোকানপাটে ভাঙচুর চালান। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছুঁড়েন। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি কর্তৃপক্ষ মেনে নেওয়ার পরও ঐ শহরে গত ১৪ সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলছে। হংকংয়ের ব্যাপারে নাক না গলানোর জন্য চীন বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে আসছে। বেইজিং বলছে, ১৯৯৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে পাওয়া এই সাবেক উপনিবেশের পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে হংকংয়ের নিজস্ব ব্যাপার। বিক্ষোভকারীরা দাবি করছেন, একটি নয়, তাদের পাঁচ দাবির সবগুলোই মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রত্যপর্ণ বিল বাতিলসহ তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হচ্ছে : সকল বিক্ষোভকারীর প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা, বিক্ষোভকারীদের কর্মকান্ডকে দাঙ্গা হিসেবে বর্ণনা করা বন্ধ, নিরপেক্ষভাবে পুলিশের জুলুমবাজির তদন্ত এবং হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী, আইন পরিষদ ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে অবাধ ভোটের আয়োজন করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র কী জড়িয়ে পড়তে পারে?
হংকংয়ে হস্তক্ষেপ করতে বিক্ষোভকারীদের আকুল আবেদন সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বর্ণনা করেছেন এভাবে : প্রেসিডেন্ট শি একজন মহান নেতা যাকে চীনা জনগণ খুবই সম্মান করেন। গত মাসের মাঝামাঝি ট্রাম্প এক টুইটে লেখেন, আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে প্রেসিডেন্ট শি দ্রুত এবং মানবিকতার সঙ্গে হংকং সমস্যার সমাধান করবেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার শনিবার বলেছেন, চীন সংযত আচরণ করবে বলে তিনি আশা করেন। চীন অবশ্য হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের মদত দেয়ার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনকে দায়ী করেছে।

