শিক্ষকের বেতের আঘাতে ছাত্রীর চোখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:৩৬

হবিগঞ্জে শিক্ষকের বেতের আঘাতে হাবিবা আক্তার (৮) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীর চোখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিশুকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

হাবিবা সদর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের শাহিন মিয়ার মেয়ে এবং যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। এদিকে এ ঘটনায় রবিবার রাতে এক সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। তাকে আজ সোমবারের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় হেলপার নিহত

এলাকাবাসী জানায়, রবিবার ক্লাস চলাকালে সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন দাশ তার হাতের একটি বেত ছুঁড়ে মারলে তা সরাসরি হাবিবার চোখে লাগে। এতে তার চোখ থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে স্কুলে হৈ চৈ পড়ে যায়। স্থানীয়রা হাবিবাকে দ্রুত উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মিঠুন রায় পরীক্ষার পর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটে পাঠায়। পরে তার স্বজনরা হাবিবাকে ঢাকা চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মিঠুন রায় জানান, বেতটি সরাসরি হাবিবার চোখের ভেতর আঘাত করায় তার চোখ খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন দাশ বলেন, ঘটনার সময় আমি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়া নিচ্ছিলাম। এ সময় যারা পড়া পারছিল না তাদের টুকটাক বেত্রাঘাত করি। ওই ক্লাসের দরজার সামনে কিছু শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে হৈ চৈ করছিল। আমি তাদের বারবার ধমক দিলেও তারা সেখানে দাঁড়িয়ে থাকলে হাতে থাকা বেত ছুড়ে মারি। তা গিয়ে হাবিবার চোখে লাগে। এটি আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল। ওই ছাত্রীর চিকিৎসার যা প্রয়োজন হয় আমি তা করবো।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এখন বিস্তারিত তথ্য নেয়া এবং খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদর উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার আবু জাফরকে দিয়ে এ কমিটি করা হয়। আজ (সোমবার) সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়া জন্য বলা হয়েছে। তিনি তদন্ত করছেন।

তিনি আরও জানান, শুনেছি ওই শিক্ষক আহত ছাত্রীকে নিয়ে ঢাকায় গেছেন। তবে বেত দিয়ে আঘাত করার কোন বিধানই নেই। শুধু তাই নয় শ্রেণিকক্ষে বেত নিয়ে যাওয়ারও অনুমতি নেই। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমআরএম