গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে পুলিশকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া একই ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গাইবান্ধা পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে (রাত সাড়ে ১১টায়) দায়েরকৃত এই মামলায় আটক যুবলীগ নেতা রাব্বী শাহান পলাশকে একমাত্র নামীয় ও ৩০/৩৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। অপরদিকে পুলিশ পরিদর্শক নওয়াবুর রহমানকে রাতেই গাইবান্ধা পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তাফিজার রহমান জানান, সরকারি কাজে বাধা ও দলবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করার অভিযোগ এনে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক নওয়াবুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।
গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম পরিদর্শক নওয়াবুর রহমানের ক্লোজড হওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, প্রশাসনিক কারণে তাকে পুলিশ লাইনে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত ধাপেরহাটের পালানপাড়ার মামুনি আকতার নামে এক গৃহবধূ পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে গত মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় কিছু যুবকের সহায়তায় বাড়ির সব আসবাবপত্র নিয়ে বাবার বাড়ি যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে তার স্বামী সহিদ সরকারের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তখন ধাপেরহাট ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক রাব্বী শাহান পলাশ তাদের ওপর চড়াও হয়।
এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আজিজুর রহমান ঘটনাটি মোবাইলফোনে ভিডিও করতে শুরু করলে যুবলীগ নেতা পলাশ তার মুঠোফোনটি কেড়ে নেন। এ সময় তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পুলিশ তখন তাকে আটক করে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে তিনজনের লাশ উদ্ধার
এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ও দলীয় নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ঘেরাও করে। তখন পুলিশ তিন রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।
ইত্তেফাক/নূহু
