৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এডিবির

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:৪৬

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এশীয় অঞ্চলে অন্যান্য দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে নির্ধারণ করলেও বাংলাদেশে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

 

চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে বলে মনে করছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে মুদ্রানীতির কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহও বাড়বে। ব্যবসায় পরিবেশ উন্নত করতে চলমান সংস্কার এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সুবাদেও বাড়বে প্রবৃদ্ধি। তবে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং ভ্যাটের আওতা বাড়ার কারণে পণ্য ও সেবার দাম সামনের দিনগুলোতে বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।

 

বুধবার আগারগাঁওয়ে এডিবির ঢাকা অফিসে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকের হালনাগাদ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এ সময় এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থাটির ঢাকা অফিসের অর্থনীতিবিদ সুন চ্যাং হং।

 

মনমোহন প্রকাশ বলেন, দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে অবশ্যই অবকাঠামো উন্নত করতে হবে। শুধু সড়কব্যবস্থা নয়, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সেভাবে তৈরি করা, বন্দরসুবিধা তৈরি করতে হবে। এর পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা চাইবে তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষিত হোক। বর্তমান বিশ্বে বড়ো বড়ো শিল্প ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ অন্যান্য দেশে স্থানান্তরিত হচ্ছে। কারণ তারা বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারছে। এ ধরনের বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ব্যাবসায়িক পরিবেশ দ্রুত উন্নত করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবকিছু ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। সারাদেশে সুষমভাবে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে।

 

ক্যাসিনো-বিরোধী চলমান অভিযান অর্থনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, সুশাসনের জন্য এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। সুশাসনের উন্নতি হলে বিনিয়োগ বাড়বে। অর্থের গুরুত্ব বাড়বে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। এ ধরনের উদ্যোগের ফলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি বাড়বে।

 

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে মনমোহন প্রকাশ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে অগ্রগামী। তবে এই প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের জন্য মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য কমিয়ে আনা, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ভ্যাট আইনের কার্যকর প্রয়োগ ইত্যাদি।

 আরো পড়ুন : পূজায় ভারতকে ৫০০ টন ইলিশ দিচ্ছে বাংলাদেশ

এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৮ শতাংশ, চীনের ৬ শতাংশ, কোরিয়ার ২ দশমিক ৪ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের ১ দশমিক ৪ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ৫ দশমিক ২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের ৬ দশমিক ২ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের ১ দশমিক ৪ শতাংশ, থাইল্যান্ডের ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে সার্বিকভাবে এশিয়ার প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, যা মূল প্রতিবেদনের পূর্বাভাসে ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ছাড়া প্রায় সব দেশের প্রবৃদ্ধি আগের চেয়ে কমিয়ে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুধু বাংলাদেশের অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১০ শতাংশ। এক্ষেত্রে চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। আমদানি অনেক বেড়ে যাবে। কারণ সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে প্রচুর মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি করতে হচ্ছে। তবে এ বছর খাদ্য আমদানি কমতে পারে।

 

ইত্তেফাক/ইউবি