ফল প্রকাশ না হওয়ায় স্নাতকোত্তর পরীক্ষা স্থগিত

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:৫৫

পরীক্ষা কমিটির দায়িত্ব অবহেলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ৪২তম ব্যাচের থিসিস গ্রুপের ফলাফল যথাসময়ে প্রকাশ হয়নি। এতে ৪৩তম ব্যাচের স্নাতকোত্তরের তত্বীয় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। 

জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট পূর্বনির্ধারিত ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের (৪৩ ব্যাচের) স্নাতকোত্তর শ্রেণি চূড়ান্ত (তত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে বিভাগে যান। পরে বিভাগে গিয়ে জানতে পারেন ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের (৪২ তম ব্যাচ) স্নাতকোত্তর থিসিস গ্রুপের শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় ৪৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। 

৪২ ব্যাচের স্নাতকোত্তর পরীক্ষা সম্পন্ন করতে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বিভাগের একাডেমিক সভায় অধ্যাপক এস এম বদিয়ার রহমানকে সভাপতি করে ৪ সদস্যের পরীক্ষা কমিটি-২০১৭ গঠিত হয়। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তত্বীয় পরীক্ষা এবং নভেম্বরে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয়। নন-থিসিস গ্রুপের ফলাফল প্রকাশিত হয় চলতি বছরের মার্চে। অন্যদিকে থিসিস-গ্রুপের প্রতিবেদন জমা নেওয়া হয় চলতি বছরের মার্চে। আর প্রতিবেদনের ওপর সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় এপ্রিলে। অথচ পরীক্ষার যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও কমিটি ফলাফল প্রস্তুত করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকে পাঠাননি। তাই ফলাফল প্রকাশ করতে পারেননি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।

পরীক্ষা অধ্যাদেশ ৯(২) ধারা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক পরীক্ষা কমিটির দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে বিভাগীয় সভাপতিকে তা লিখিতভাবে অবহিত করবেন। এরপর বিভাগীয় সভাপতি ওই কমিটির জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে কমিটির প্রধান হিসেবে সুপারিশ করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকে পাঠাবেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অনুমোদন দিলে ওই কমিটি পুনরায় কার্যক্রম শুরু করবেন। পরীক্ষা কমিটিতে দায়িত্ব পালনকালে কোনো শিক্ষক অবসরে গেলে তিনি ওই কমিটিতে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না।
 
কিন্তু অধ্যাপক বদিয়ার গত ৩০ জুলাই প্রস্তুতিমূলক অবসরে (এলপিআর) যান। অবসরে যাওয়ার পরেও দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা কমিটিতে ছিলেন। অথচ অবসরে যাওয়ার বিষয়টি তিনি বিভাগীয় সভাপতিকেও অবহিত করেননি। ফলে ফলাফল প্রস্তুতকরণেও দেখা দেয় জটিলতা। 

এদিকে পরীক্ষা অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে কমিটির জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক মু. নজিবুর রহমান বিভাগের সভাপতির অনুমোদন ছাড়াই নিজেকে পরীক্ষা কমিটি-২০১৭-এর প্রধান হিসেবে সুপারিশ করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকে পাঠান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিভাগের সভাপতি জরুরি একাডেমিক সভা আহ্বান করেন। সভায় সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসব ঘটনায় শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পরীক্ষা অধ্যাদেশ অনুসরণ করে কমিটির পুনর্গঠন এবং  দ্রুত ফলাফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: চার বছরেও চালু হয়নি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক বদিয়ার রহমান বলেন, ‘বিভাগের সভাপতিকে লিখিতভাবে জানানোর নিয়মটি আমি জানতাম না। আর আমাকে কেউ জানায়নি। এজন্য একটু বিলম্ব হয়েছে।’ 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক মু নজিবুর রহমান মুখ খুলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘বিভাগের সভাপতি সবকিছু জানেন। তিনি এসব বিষয়ে বলতে পারবেন।’  

বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক নূরুল করিম বলেন, ‘পরীক্ষা কমিটির খামখেয়ালির কারণে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। আমরা বিভাগের জরুরি সভা ডেকে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি। ১০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করে পরীক্ষা শুরু করবো।’

ইত্তেফাক/অনি