নগরবাসীর উন্নয়নে কোন অবস্থাতেই পিছপা না হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীর সেবায় বিভিন্ন কাজের জন্য প্রয়োজনে ‘জনস্বার্থে আমি ১০ বার না হাজার বার মাফ চাইতে পারবো। তবু কাজ করে যাবো।’ কোন প্রলোভন কিংবা ভয়ভীতি আমাকে বিচ্যুত করতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক প্রারম্ভিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় ও জাতীয় গৃহায়ন ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর বাস্ত্যবায়নে ‘স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত জীবন ব্যবস্থা’ শীর্ষক প্রকল্প এর ওই প্রারম্ভিবক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রকল্পটির কার্যক্রম সম্পর্কে জাতীয় গৃহায়ণ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক বিজয় কুমার মন্ডল বলেন, সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ‘স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত জীবন ব্যবস্থা’ শীর্ষক জনসমষ্টি ভিত্তিক পাইলট প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। পরীক্ষামূলক এ প্রকল্পটি ডিসেম্বর ২০১১ সাল পর্যন্ত চলবে। প্রাথমিকভাবে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন : যবিপ্রবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের আট নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
তিনি বলেন, সে অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৬নং ওয়ার্ডের ঋষিপাড়া, ১৮নং ওয়ার্ডের আল আমিন নগর, ১৯নং ওয়ার্ডের শান্তিনগর ও ২১নং ওয়ার্ডের ঋষিপাড়া কাজ শুরু হবে। আর প্রকল্প অনুযায়ী ওই এলাকার মানুষকে নতুন ভবন নির্মাণ, পুরাতন ভবন সংস্কার ও ভবন বর্ধিতকরণের জন্য সহজ ও স্বল্প হারে ঋণ দেয়া হবে। একই সঙ্গে ওইসব এলাকায় রাস্তা, ফুটপাত, ড্রেন, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ, খেলাধুলার মাঠ, স্কুল, মার্কেট সহ সার্বিক উন্নয়ন করা হবে। যার অর্থায়ন করবে ওয়াল্ড ব্যাংক ও সার্বিক সহযোগিতায় সিটি করপোরেশন।
মেয়র আইভী বলেন, ২০০৩ থেকে এখনও পর্যন্ত ১৭ বছর ধরে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এখনও পর্যন্ত যেসব পাইলট প্রকল্প আমাদের সিটি করপোরেশন থেকে শুরু হয়েছে সবই এখানে সফল হয়েছে। যার অনেক উদাহরণ আছে। এর ধারবাহিকতায় অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় হয়েছে। আশা করছি এ প্রকল্পটিও সফল হবে। এর জন্য আমরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবো।
নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নের বিষয়ে মেয়র আইভী বলেন, সিটি করপোরেশনের আওতায় অনেক সরকারি খাসের জায়গায় কিংবা সিটি করপোরেশনের জায়গায় নিম্ন আয়ের মানুষ বসবাস করে। তাদের সেইসব জায়গার অর্ধেকের মধ্যে ভবন করে বাসস্থান, অর্ধেকে খেলার মাঠ, মার্কেট, স্কুল করে দেওয়ার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কারণ ভূমিকম্প হলে খালি জায়গা নেই। ভূমিকম্প হলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে মানুষ। ভূমিকম্প হলে নিশ্চিত মৃত্যু। তাই আমরা এ প্রকল্পটি করছি।
তিনি আরো বলেন, বস্তিতে অনেক শিশু আছে যারা অনেক মেধাবী। তারা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। আমাদের তাদের জন্য বস্তিতে প্রাইমারী স্কুল, দুপুরে খাবার ব্যবস্থা করছি। যা এখনই কয়েকটি স্কুলে চালু আছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জায়গার নিরাপত্তা ও মালিকানা নিশ্চয়তার জন্য মেয়র আইভী বলেন, যেসব এলাকায় ভবন তৈরি করা হবে সেখানকার অনেকই আছে যাদের এক শতাংশ কিংবা তারও কম কিংবা বেশি জায়গা আছে। কিন্তু তারা সিটি করপোরেশন কিংবা সংগঠনকে কেন দিবে। তাই তাদের সম্পত্তির অর্ধেক তাদের নামে ও বাকি জায়গায় সিটি করপোরেশনের নামে ভবন করে দেওয়া হবে। ফলে তারা যেমন বাসস্থান পাবে তেমনি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাবে। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে। এক সময় আমি থাকবো না। এখানে অন্য কেউ আসবে। তাই প্রতিষ্ঠানের নামে থাকলে তাদের কেউ উঠিয়ে দিতে পারবে না। সেইভাবে চুক্তি বদ্ধ থাকবে।
তিনি আরো বলেন, পৌরসভার সময় একটি ক্লাবকে সুইমিং, সুবজায়ন সহ বিভিন্ন চুক্তির ভিত্তিতে জায়গা বরাদ্দ (লিজ) দেয়া হয়। কিন্তু ৬০ বছর পর দেখা যায় তারা চুক্তি অনুযায়ী কিছুই পূরণ করেনি। তাই সিটি করপোরেশনের জায়গা বুঝে নেওয়া হয়েছে। এজন্য মামলা করলেও সিটি করপোরেশন মালিকানায় পক্ষে রায় আসে। পরে বাধ্য হয়ে ভবনটি ভেঙে দেওয়া হয়। যার জন্য আবার আদালতে আমার নামে মামলা দেয়। আমি মামলাকে ভয় পাই না। জনস্বার্থে আমি ১০ বার না হাজার বার মাফ চাইতে পারবো।
প্রকল্প পরিচালক এসএএম ফজলুল কবীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম এহতেশামূল হক, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ড. একেএম নূরুজ্জামান, বিশ্ব ব্যাংক প্রতিনিধি মিজ সোনিয়া এম সুলতানা সহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।
ইত্তেফাক/কেআই
