লোকমান ইস্যুতে বিব্রত নয় বিসিবি

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৫২

ক্যাসিনো কাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তোলপাড় গোটা দেশ। এই অভিযানে কাঁপছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। উত্তপ্ত এই হাওয়ায় দুলছে দেশের সবচেয়ে শক্তিধর ক্রীড়া ফেডারেশন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্যাসিনো কাণ্ডে ধরা পড়া মোহামেডান ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়া বিসিবিরও পরিচালক। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। গতকালই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

এদিকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের (৬২ কোটি টাকা) অভিযোগে বিসিবির আরেক পরিচালক মাহবুব আনামকে নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সবমিলে ভাবমূর্তির সংকটে পড়ে গেছে দেশের ক্রিকেট বোর্ড। যদিও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন মনে করেন, লোকমানের গ্রেফতার হওয়ার ইস্যুতে বিব্রত নয় বিসিবি। লোকমান তার বন্ধু হলেও মোহামেডান ক্লাবে ক্যাসিনো আছে জানতেন না পাপন। গতকাল সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, লোকমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিসিবি তাকে ছাড় দেবে না।

ক্যাসিনো ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে গত বুধবার রাতে র্যাব অভিযান চালায় লোকমানের বাসায়। তার বাসা থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অস্ট্রেলিয়ার দুটি ব্যাংকে ৪১ কোটি টাকা রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন লোকমান। বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান তিনি। বর্তমান কমিটিতে ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের চেয়ারম্যান লোকমান। পূর্বাচলে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য বিসিবির গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটিতেও আছেন তিনি।

ক্রিকেটারদের অনৈতিক, শৃঙ্খলাবহির্ভূত কাজে অতীতে অনেকবারই বিব্রত হয়েছে বিসিবি। এবার পরিচালকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবশ্য এমন অবস্থার অবতারণা হচ্ছে না। লোকমানের গ্রেফতার হওয়ার বিষয়ে বিব্রত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।

গতকাল নিজের বাসায় পাপন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেখুন এখানে বিব্রত হওয়ার কিছু নেই।’

অন্যায় করলে লোকমানের বিচার হবে উল্লেখ করে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘লোকমান হোসেন ভুঁইয়া সে ক্লাব ভাড়া দিয়েছে। অবশ্যই সে যদি ক্যাসিনোর কাছে ভাড়া দিয়ে থাকে এবং তার সঙ্গে যদি সংশ্লিষ্টতা থাকে তাহলে বিচার হবে। এর বাইরে কিছু নয়।’

লোকমান দোষী হলে বিসিবির পক্ষ থেকে ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল পাপন বলেছেন, ‘আমার কথা হচ্ছে যদি কেউ অন্যায় করে থাকে তাহলে তার বিচার হবে। এখানে কোনো ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। আমি বিসিবিতেও ছাড় দেব না। বিসিবিতেও কখনো আমি ছাড় দেইনি, এটি হতেই পারে না।’

পাপন ও লোকমান পরস্পরের বন্ধু। পাপনই ২০১২ সালে লোকমানকে বিসিবিতে নিয়ে এসেছেন। তবে মোহামেডান ক্লাবে ক্যাসিনো আছে জানতেন না বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘আমাকে লোকমান কোনো দিন বলেনি যে ক্লাবে একটি ক্যাসিনো আছে। এটা কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার। সে কিন্তু আমার বন্ধু। আমি নিজেও জানতাম না, আমাকে কখনো বলেইনি।’

তবে পাপনের পরিচিত লোকমান নাকি কোনো দিন মদ স্পর্শ করেননি এবং জুয়া খেলেননি। বন্ধু সম্পর্কে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমি যে লোকমানকে চিনি, সে জীবনেও মদ খায়নি। সে জীবনে কোনো দিন জুয়া খেলেনি। এটা যেমন সত্যি আবার এটাও সত্যি, যে সে ক্যাসিনো ভাড়া দিয়েছে। এখানে অস্বীকার করার তো কোনো পথ নেই। সে যদি করে থাকে, তাহলে তার বিচার হবে।’

ইত্তেফাক/এসআর