উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের পূর্ব রত্নাপালং বড়ুয়া পাড়ায় এক বাড়িতে বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নারী, শিশুসহ চারজনকে জবাই করে হত্যা করা হয়। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল মনসুর জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রমে অধিকতর গতি আনতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নিহত মিলা বড়ুয়ার বাবা ও রোকন বড়ুয়ার শ্বশুর শশাংক বড়ুয়া বাদি হয়ে হত্যা মামলাটি গত ২৬ সেপ্টেম্বর উখিয়া থানায় দায়ের করেছেন। তবে মামলার এজাহারে সুনির্দিষ্ট কাউকে আসামি করা হয়নি। এ মামলা দায়েরের পর উখিয়া থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) মোহাম্মদ ফারুক হোসেনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তার পরিবর্তে ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) মর্যাদার কর্মকর্তা উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মজুমদারকে আইও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়োগ পাওয়া আইও ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ, বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি গত শুক্রবার পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস এন্ড ক্রাইম) আবুল ফয়েজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। তিনি চট্টগ্রাম থেকে এ মামলার সার্বিক বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছেন।
তদন্ত কার্যক্রম কতটুকু এগিয়েছে, ঘাতক চিহ্নিত হয়েছে কিনা, আসামি গ্রেফতার করতে আর কতদিন লাগবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করার সময় এখনও আসেনি। হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদঘাটন করা হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে সে বিষয়ে অবগত করবেন।
আরও পড়ুন: নোবেল কমিটির কাছে শেখ সেলিমের অনুরোধ
এদিকে দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের অনেক ক্লু ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে, তবে তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা হচ্ছে না। পুলিশের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা মোটিভ উদঘাটনে প্রায় শেষ পর্যায়ে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট, সিআইডির ক্রাইম সিন টিমের রিপোর্ট, পিবিআই এর চট্টগ্রাম থেকে আসা ফরেনসিক এক্সপার্ট টিমের রিপোর্ট, সুরতহাল রিপোর্ট, অন্যান্য সংগ্রহকৃত আলামত ও তথ্য উপাত্তসহ সমন্বিত করে প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেছেন, পুলিশ অনেক দুর এগিয়ে গেছে। কক্সবাজার জেলা পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়ে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, কুয়েত প্রবাসী রোকন বড়ুয়ার বাড়িতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে তার মা সখী বড়ুয়া (৬৪), স্ত্রী মিলা বড়ুয়া (২৫), পুত্র রবিন বড়ুয়া (৫) ও ভাইঝি সনি বড়ুয়াকে দুর্বৃত্তরা গলা কেটে হত্যা করে।
ইত্তেফাক/অনি

