এনআরসি ইস্যুতে কলকাতায় সেমিনার মঙ্গলবার

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৫০

এনআরসি ইস্যুতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় সেমিনার হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার।  সেমিনারে যোগ দিতে সোমবার কলকাতায় পা দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন ক্ষমতাসীন বিজেপির এই নেতা। এদিকে তার আগমনে রাজ্যের জনমনে ও রাজনীতিকদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

মঙ্গলবার একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে উপস্থিত হয়ে পূজা উদ্বোধন করার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। এরপর যোগ দেবেন সেমিনারে। সেখানে নাগরিক পঞ্জি ও নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল, ২০১৯ বিল নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। 

আসামে নাগরিকপঞ্জি তালিকা থেকে ১৯ লাখ নাগরিকের নাম বাতিলের পর থেকে কলকাতাসহ পুরো পশ্চিমবঙ্গে নাগরিক পঞ্জি নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত আতঙ্কে ১১ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। জন্ম-নিবন্ধন ও নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের জন্য শত শত মানুষ লাইন ধরছেন রাজ্যের পৌরসভা ও সরকারি অফিসগুলোতে।     

অমিত শাহ একাধিক বার বলেছেন, আসামের মতো পুরো ভারতে নাগরিকপঞ্জি তালিকা করা হবে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, নাগরিকপঞ্জি বাংলায় হতে দেয়া হবে না। 

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়, অমিত শাহর সেমিনারের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। তিনি এই সেমিনারে এসে তৃণমূল কংগ্রেসের আনা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে নাগরিকপঞ্জি সম্পর্কে যা ভুল ধারণা, তা ভেঙে দেবেন। 

বিজেপির একজন বর্ষীয়ান নেতা বলেন, 'তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যে এনআরসি নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই অমিত শাহজি আমাদের পরিষ্কার ছবিটা দেখাবেন এবং সমস্ত ভয় ও ভ্রান্ত ধারণার সমাপ্তি ঘটাবেন।' 

আরও পড়ুন:  গুলশান-২ এ অভিযান চালাচ্ছে র‍্যাব

গত ৩১ আগস্ট আসামে নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হলে দেখা যায়, ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এর মধ্যে ১২ লক্ষ হিন্দু রয়েছেন। এতজন বাঙালি হিন্দু তালিকা থেকে বাদ পড়ার পর পশ্চিমবঙ্গেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে এই নিয়ে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা জানান, ‘তৃণমূল নাগরিক পঞ্জির বিরোধিতা করছে বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে, যারা তাদের ভোট ব্যাংক। কিন্তু আসামের নাগরিকপঞ্জি থেকে এত সংখ্যক হিন্দুর নাম বাদ যাওয়ার পর তারা আমাদের হিন্দু-বিরোধী এবং শরণার্থী বিরোধী দল প্রচার করছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে আমাদের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।'  

এদিকে বিজেপির এনআরসি সংক্রান্ত পদক্ষেপকে ‘বাঙালি-বিরোধী'  বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, ‘নিজেদের হিন্দুর রক্ষাকর্তা হিসেবে দাবি করার আগে বিজেপির প্রথমে বোঝানো উচিত কেন আসামের নাগরিকপঞ্জির তালিকা থেকে এত বিপুল সংখ্যক হিন্দুর নাম বাদ দেওয়া হল?'

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘বিজেপি বলেছে নাগরিকপঞ্জি করার উদ্দেশ্য অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো। তাহলে যে হিন্দুদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ল তারা অনুপ্রবেশকারী?'

নাগরিক (সংশোধনী) বিলে প্রস্তাব রাখা হয়েছে, হিন্দু, জৈন, শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও পার্সিরা যারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে এসেছেন তাঁরা সাত বছর ভারতে বাস করলেই নাগরিকত্ব পাবেন। বর্তমান নিয়মে সময়টা ১২ বছর। এই বিল গত ৮ জানুয়ারি পেশ করা হলেও ঊর্ধ্ব কক্ষে আটকে যায়। কয়েকজন বিজেপি নেতা দাবি করেন, আবারও বিলটি পেশ করা হবে নতুন করে। 
 
এনডিটিভি
ইত্তেফাক/মিশু