রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষা কার্যক্রমসহ সামগ্রিক পরিবেশ যখন শান্তিপূর্ণভাবে বিরাজমান সেই মুহূর্তে স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক দলীয় ব্যানার ব্যবহার করে বিবৃতির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার বিরোধী তথা স্বাধীনতা বিরোধীদের ইন্ধন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ শিক্ষকের বিবৃতি প্রসঙ্গে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজে’র স্টিয়ারিং (কার্যনির্বাহী) কমিটির সভার সিদ্ধান্তে আহবায়ক অধ্যাপক ড. এম মজিবুর রহমান এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ওই অনভিপ্রেত বিবৃতিটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে দলীয় কনভেনর অধ্যাপক ড. এম মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে দলীয় স্টিয়ারিং কমিটির এক সভা শনিবার অনুষ্ঠিত হয়।
সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বলা হয়, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ৫৮ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্যের ‘জয় হিন্দ' শব্দদ্বয় ব্যবহারের এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য প্রফেসর চৌধুরী এম জাকারিয়া-এর সঙ্গে আইন বিভাগের চাকরি প্রত্যাশীর স্ত্রীর ফোনালাপ প্রসঙ্গে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তা দলের কোন বক্তব্য নয়। প্রায় ৭ শতাধিক শিক্ষক সম্বলিত দলীয় এ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে ঐ শিক্ষকবৃন্দ যে বিবৃতি প্রদান করেছেন তার সঙ্গে এ দলের কোন সম্পৃক্ততা নেই।’
‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমসহ সামগ্রিক পরিবেশ যখন শান্তিপূর্ণভাবে বিরাজমান সেই মুহূর্তে শিক্ষকদের দলীয় এ সংগঠন মনে করে, দলীয় ব্যানার ব্যবহার করে স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতির মাধ্যমে প্রকারান্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার বিরোধী তথা স্বাধীনতা বিরোধীদেরই ইন্ধন প্রদান করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: বুড়িগঙ্গায় গোসল করতে গিয়ে শিশু নিখোঁজ, একদিন পর লাশ উদ্ধার
উল্লেখ্য, ‘কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উত্থাপিত হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষ তা অনুসন্ধানপূর্বক সুরাহা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন বলে দলটি মনে করে। কিন্তু এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়কে যে কোনভাবে অশান্ত করার অপপ্রয়াস থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিরত থাকার জন্য দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হচ্ছে। এ সভা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান স্বাভাবিক কার্যক্রম তথা বিরাজমান সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষা পঠন, পাঠন, পরীক্ষা ও গবেষণাসহ আসন্ন ভর্তি পরীক্ষার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করে। এই সভা উপর্যুক্ত বিষয় বিবেচনায় এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অভিভাবকবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে সহযোগিতা করার জন্যও আহবান জানাচ্ছে।’
ইত্তেফাক/নূহু
