রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের বহুল আলোচিত নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও ফাঁসের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. আব্দুল হান্নান। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একটি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন তিনি।
এ সময় আলোচিত ব্যাংক হিসাবকে তার পরিচালিত ব্যবসায়ীক এবং ওই হিসাবে নিয়োগপ্রার্থী নুরুল হুদার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, ওই টাকা ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে ধার নিয়েছিলেন এবং নিয়োগ বোর্ডের আগেই ফেরত দিয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ‘রাবি উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া নিজেকে রক্ষা করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার ওপর দায় চাপিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন।’ তবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের অধিকাংশ প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।
এর আগে গত ৩ অক্টোবর অধ্যাপক হান্নানের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার বক্তব্য সম্পর্কে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘আমি ডিসেন্ট ট্রেডার্সের ব্যবসায়িক প্রয়োজনে দুই লাখ টাকা ধার হিসেবে নিয়েছি।’ তবে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি ফ্লাট নির্মাণ সংক্রান্ত কাজে টাকা নিয়েছিলেন।
তিনি ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া ব্যবসা করতে পারেন কি না? নিয়োগের পূর্বে প্রার্থীর কাছ থেকে কেন টাকা ধার নিলেন? আয়কর ফাইলে ডিসেন্ট ট্রেডার্সের ব্যবসার কথা উল্লেখ নেই কেন? ট্রেড লাইসেন্স কেন নাবায়ন করা হয়নি এবং টাকা নেওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে দুই ধরণের বক্তব্য কেন?’ শীর্ষক সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেন নি।
আরও পড়ুন: আবরারের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন
ফোনালাপ রেকর্ড করে উপ-উপাচার্য এবং আপনাকে বিতর্কিত করার দায়ে আলোচিত নিয়োগপ্রার্থী নুরুল হুদার শাস্তি চান কি না- এমন প্রশ্নেরও কোনো জবাব দেননি অধ্যাপক আব্দুল হান্নান।
ইত্তেফাক/নূহু
