রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলি, আহত ২

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:১৩

রাজশাহী মহানগরীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড ফুলতলায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত ২ ব্যক্তিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ২৮ নম্বর ওয়ার্ড (পশ্চিম) স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জুবায়ের হাসান জনির (২৬) ডান পায়ে গুলি লেগেছে। তিনি কাজলার ফুলতলার আসলামের ছেলে। অপর আহত একই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে সুজন (২৮) ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য। তার বাম হাতের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত চাপাতির আঘাত রয়েছে।

স্থানীয় ও আহতরা জানান, সম্মিলিতভাবে বালুর ব্যবসার জন্য ২০১০ সালে ফুলতলা ২৮ নম্বর ওয়ার্ড মতিহার থানা (পশ্চিম) আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি আব্দুস সাত্তার বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন। সেই অর্থে কেনা হয় ড্রেজার। কিন্তু পরিকল্পিত বালুর ব্যবসাটি পরে বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাবসায় যারা অর্থ দিয়ে বিনিয়োগ করেন তারা আব্দুস সাত্তারকে অর্থ ফেরত দিতে বলেন। কিন্তু তিনি অসম্মতি জানান। এ বছর সেই ড্রেজারটি পুনরায় চালু করে ব্যবসার উদ্যোগ নেওয়া হলে আব্দুস সাত্তার বাধা দেন। মিমাংসার আহ্বানও তিনি উপেক্ষা করেন।

শুক্রবার সকালে ২৮ নম্বর পশ্চিম ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জুবায়ের হাসান জনি ও কর্মী সুজনসহ কয়েকজন ড্রেজারটি ঠিক আছে কি না দেখতে গেলে তাদের উপর চড়াও হয় আব্দুস সাত্তারের ছেলে টনি ও ডনিসহ অন্তত ২০ জন। ড্রেজারে থাকা অবস্থায় জনিকে গুলি করে তারা। জনির ডান পায়ে গুলি লাগলে তিনি ড্রেজার থেকে নিচে পড়ে যান। এ সময় সুজনকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়। এতে তার বাম হাতের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত অংশ ঝুলে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জনি বলেন, ড্রেজার চালু নিয়ে বেশ কদিন থেকেই আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে স্থানীয়দের বিবাদ চলছিলো। শুক্রবার সকালে তারা ড্রেজার চেক করতে গেলে আব্দুস সাত্তারের দুই ছেলে টনি ও ডনিকে পিস্তল নিয়ে হামলা করে। তাদের সঙ্গে আরও অন্তত ২০ জন এসে তাদের মারধর করে।

আরও পড়ুন: চরফ্যাশনে ১ হালি ইলিশ কেনার দায়ে ৪ ক্রেতার ১ বছর করে কারাদণ্ড

নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, ফুলতলায় ড্রেজার নিয়ে বিবাদের দুইজন আহতের কথা শুনেছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, 'গোলাগুলির ঘটনা শুনেছি। তবে বিস্তারিত জানা যায়নি।'

ইত্তেফাক/এএন