আটক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা হাবিবুর রহমান মিজানকে নিয়ে তার কার্যালয়ে অভিযান চালাচ্ছে র্যাব। শুক্রবার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এ অভিযান শুরু করে র্যাব-২। একই সঙ্গে মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব রোডে মিজানের বাসায় অভিযান চালায় র্যাব।
এর আগে শুক্রবার ভোররাতে সুনামগঞ্জ সীমান্ত থেকে হাবিবুর রহমান মিজানকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানকে আটক করা হয়। এখন তাকে নিয়ে তার বাসায় অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
হাবিবুর রহমান মিজান মোহাম্মদপুরের ৩২ নং ওয়ার্ড কমিশনার। তিনি এখন মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের আলোচিত-সমালোচিত নেতা। গত কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।
আরো পড়ুন: শান্তিতে নোবেল পেলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যাবি আহমেদ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি মিজান। তার নামে মোহাম্মদপুর থানায় ১৯৯৬ সালে ইউনূস হত্যা, ২০১৬ সালে সাভার থানায় জোড়া হত্যা মামলা রয়েছে। মিজান মোহাম্মদপুরে এসেই শুরু করেন চাঁদাবাজি, ছিনতাই। এছাড়া মোহাম্মদপুর বিহারি ক্যাম্পে মাদক নিয়ন্ত্রণকারী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি পরিচিত। অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া মিজান বহুবার গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। তার সেকেন্ড ম্যান মাতব্বর তুহিন নেশাখোর। বর্তমানে ইয়াবা ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছেন আদাবরে।
১৯৮৯ সালে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাসায় হামলার সময় মিজান ছিলেন ফ্রিডম পার্টির বড় নেতা। অনুসন্ধানে জানা যায়, শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাকারীদের অন্যতম ছিলেন মিজানুর রহমান মিজান। পাগলা মিজান নামেই সবাই তাকে চেনে। হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি নাম বদলিয়ে রাখেন হাবিবুর রহমান মিজান। পরে এক সময় ফ্রিডম পার্টি থেকে গিয়ে ভেড়েন আওয়ামী লীগে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
