পুঠিয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টায় শিক্ষককে গণধোলাই

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:২৪

রাজশাহীর পুঠিয়ায় প্রাইভেট পড়ানোর সময় ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১১) শ্রেণিকক্ষে একাধিকবার ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে গণধোলাই দিয়েছে এলাকাবাসী। পরে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মাজেদুর রহমানকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

মঙ্গলবার দিবাগত সন্ধ্যার এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মাঝে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত মাজেদুর রহমান উপজেলার শিবপুরহাট-রঘুরামপুর গ্রামের রহমতউল্লাহর ছেলে ও রঘুরামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। 

ভূক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বলেন, 'সামনে পিইসি পরীক্ষা। তাই স্কুলের শিক্ষক মাজেদুর রহমান তার মেয়েকে ভালো রেজাল্টের জন্য প্রাইভেট পড়াতে বলে। কথামতো মেয়েটি গতমাস থেকে তার কাছে প্রাইভেট পড়ছিলো। দূর্গাপুজার ছুটির সময় থেকে শিক্ষক মাজেদুর রহমান প্রাইভেট পড়ার সময় শ্রেণিকক্ষে মেয়েকে একা পেয়ে ধষর্ণের চেষ্টা করে আসছিলো। এ ঘটনা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছিলো। এরপর থেকে মেয়েটি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।'

মেয়ের কাছে স্কুলে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে সে বলে, শিক্ষক তাকে শারীরিক অত্যাচার করে। তিনি মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সকালে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিকে ঘটনা জানালে তারা কিছু টাকা নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বলেন। কিন্তু তিনি ঘটনার সঠিক বিচার চান।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক আবদুল হক ও রাতুল হাসান সবুজ জানান, শিক্ষক মাজেদুর রহমানের কাছে তাদের সন্তান নিরাপদ নয়। তার বিরুদ্ধে অনেক শিক্ষার্থী নানা অপকর্মের অভিযোগ তুলছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে মেয়েটির পরিবারকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তারাও ঘটনার সঠিক বিচার চান।

রঘুরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, গ্রামবাসী ওই শিক্ষককের পাশাপাশি তাকেও মারধর করে। কিন্তু তিনি ঘটনা আগে জানতেন না। তবে অপরাধ যে করবে তার সাজা হোক এটা তিনিও চান।

এ বিষয়ে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান জানান, এ ঘটনাটি গতরাতে লোকমুখে শুনেছেন। বিষয়টি কয়েকদিন আগের। তবে দুপক্ষের কেউ তাকে জানায়নি। শিক্ষক এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আরও পড়ুন: ভোলায় ইলিশ শিকারের দায়ে ১২ জেলের কারাদণ্ড

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, 'ওই মেয়েটির বাবা মঙ্গলবার রাতে শিক্ষক মাজেদুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দিয়েছেন। যা রাতেই মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে অভিযুক্ত মাজেদুর রহমানকে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।'

ইত্তেফাক/নূহু