গোপালগঞ্জে ৬৭ মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ, প্রতিবাদে মানববন্ধন

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৪৯

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রকৃত ৬৭ মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় ২৫ বছর ধরে ভাতাপ্রাপ্ত এসব মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধারা। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শহরের প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘আমরা ২৫ বছর ধরে ভাতা পাচ্ছি। হঠাৎ করে গত এপ্রিল মাস থেকে আমাদের ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখন আমরা পরিবার নিয়ে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। গত ৩০মে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ২৪ তম সভায় ভারতীয় তালিকা এবং মুক্তিবার্তা ব্যতীত সকল গেজেটভুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিকতা নির্ণয়ের বিষয়টি পুনরায় উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের অভিভাবক। তাই আমরা এ অবস্থায় তাঁর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

মুক্তিযোদ্ধা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ ২০১৭ সালের ১২ জুন যাচাই-বাছাই শেষে ২৪৬ জন মুক্তিযোদ্ধার আবেদন না মঞ্জুর করে তালিকা বোর্ডে টানিয়ে দেয়। পরে আমরা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে আপিল করি। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে আপিল করা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এতদিন আমরা ভাতা পাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে গত এপ্রিল মাস থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১০৫ জনের ভাতা বন্ধের চিঠি দেন। এখন আমরা ৬৭ জন ভাতা পাচ্ছিনা। বাকী ৩৮ জনের ভাতা তিনি কিভাবে ছাড় করলেন? তাদেরও যে কাগজপত্র আছে আমাদেরও সেই কাগজপত্র রয়েছে। আমাদের অনেকের গেজেট ও সনদ নম্বর ভুল উপস্থাপন করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে যাচাই-বাছাই কমিটি আমাদের আবেদন না মঞ্জুর করেছে।’

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘আপিল করার পরও ‘গ’ তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বন্ধ রাখার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৪ এপ্রিল প্রজ্ঞাপন জারি করে চিঠি দিয়েছে। সেই মোতাবেক তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ করেছি। বন্ধ করার পর কারো ভাতা চালু করিনি। আপিলে যারা বিজয়ী তাদের ভাতা ফের চালু করা হবে বলে ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাচাই করার সময় ২০১৭ সালে আমি গোপালগঞ্জে ছিলাম না। আমি গত বছর এ উপজেলায় যোগ দিয়েছি। যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি আমার জানা নেই।’

মানববন্ধন চলাকালে মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান মিয়া ও মো. হোসেন দাড়িয়াসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

ইত্তেফাক/এএএম