মেহেরপুর-২: নৌকা ও ধানের শীষের কাণ্ডারি নতুন মুখ

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:০৯

মেহেরপুর-২: (গাংনী) আসনের ভোটের মাঠে নতুন মুখেই আস্থা রেখেছে শক্তিশালী দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। নৌকার মাঝির দায়িত্বে গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহিদুজ্জামান খোকন। ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন জেলা বিএনপিরসহ সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন।

 

অন্য দলগুলোর কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে। তবে এগিয়ে থাকবে বিএনপিই। এই আসন বিএনপির ঘাঁটি নামে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে এখানে ৬ বার নির্বাচিত হন বিএনপি প্রার্থীরা।

 

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই বারের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। এতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝেও চাপা ক্ষোভ রয়েছে। সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের নেতাকর্মীরা এই মনোনয়ন মেনে নিতে পারেননি। অন্যদিকে এমএখালেক গ্রুপের লোকজন মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অনশন কর্মসূচি পালন করে। অবশেষে দলের প্রতি আনুগত্য ও সমর্থন জানিয়ে দুজনই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়ে একসাথে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সাথে ভোট করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

 

তবে জটিলতা বিএনপিতেও আছে। মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন গ্রুপের সমর্থকদের চাপা ক্ষোভ। বিগত ১০ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যাচার, নির্যাতন, হামলা-মামলা  সহ্য করে যিনি বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে সুসংগঠিত করে রেখেছেন সেই ত্যাগী নেতা আমজাদ হোসেন মনোনয়ন না পাওয়ায় নেতাকর্মী সমর্থকদের মধ্যে একধরনের হতাশা কাজ করছে। নেতা কর্মীরা অনেকেই জানিয়েছেন, যিনি বিপদে আপদে পাশে ছিলেন, সহযোগিতা করেছেন তাকে মনোনয়ন না দিয়ে যিনি দলের চরম দুর্দিনে পাশে ছিলেন না, ঢাকাই বসে থাকতেন, বসন্তের কোকিলের মতো মাঝে মধ্যে এসে অফিস খুলতেন সেই নেতা জাভেদ মাসুদ মিল্টনকে মনোনয়ন দেয়ায় বেশীর ভাগ নেতা কর্মী সমর্থকদের  মাঝে নির্বাচনী আনন্দটা ফ্যাকাসে হয়ে উঠেছে। দুটি শিবিরেই চলছে নেতা কর্মী সমর্থকদের মধ্যে মনোকষ্ট আর নীরব ক্ষোভ।

 

শেষপর্যন্ত বিজয়ের হাসি কে হাসবে তা দেখতে ৩০ ডিসেম্বর মধ্যে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ১৯৮৪ সালে গাংনী উপজেলা গঠিত হয়। প্রায় ৩৪৫ বর্গ কি.মি. আয়তনের এ উপজেলায় রয়েছে নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে মেহেরপুর-২ গাংনী আসন গঠিত হয়েছে। ভোটার রয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮৬ জন।

 

ইত্তেফাক/এএম