সমস্যা এই পর্যন্ত এলো কেন!

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:০৪

বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডের তো বটেই, দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রিকেট সংগঠক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি। বোর্ড পরিচালক হিসেবে থাকলেও বর্তমান কমিটিতে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে আবাহনীর এই পোড় খাওয়া সংগঠককে। খুব কাছ থেকে দেখছেন ক্রিকেটের বর্তমান সংকট। সেই সংকট নিয়ে একান্তে কথা বলেছেন দৈনিক ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

ক্রিকেটারদের দাবি-দাওয়াগুলো তো দেখেছেন। আপনার কাছে কী মনে হচ্ছে, এই দাবিগুলো কি যুক্তিসঙ্গত?

এখানে ক্রিকেটাররা যে দাবিগুলো পেশ করেছে, তারা ১১ দফা পেশ করেছে, এর বেশির ভাগই অনেক পুরোনো সমস্যা। এগুলো অনেকদিন ধরে হয়ে আসছে। তাদের এই দাবিগুলো খুবই যুক্তিসঙ্গত। এগুলো আমাদের কাছে অজানা ছিল, তাও না। কিন্তু যে কোনোভাবেই হোক, সমস্যাগুলো ছিল। এখন তারা এগুলো উত্থাপন করেছে। ফলে আমি মনে করি, এর একটা সুরাহা হবে।

কেউ কেউ ক্রিকেটারদের আন্দোলনের পদ্ধতিগত সমস্যার কথা বলছেন।

হ্যাঁ, এখন যে পরিস্থিতি, তাতে আমি মনে করি, খুব তাড়াতাড়ি ওদের দাবিগুলোর সুরাহা হওয়া উচিত। কারণ, কেউ কেউ আবার এর মধ্যে ধূম্রজাল তৈরির চেষ্টা করছেন। ওদের এই দাবি উত্থাপনের পদ্ধতিগত সমস্যা নিয়ে আলাপ করছেন—এভাবে না হয়ে, ওভাবে হলে ভালো হত। এগুলো নিয়ে পড়ে থাকলে সমস্যা কিন্তু থেকেই যাবে। আমি মনে করি, এই বিষয়ে আমাদের কনফ্রন্টেশনাল (লড়াইয়ের মতো করে) হলে চলবে না। এই দাবিগুলো আমাদের অবজেক্টিভলি দেখতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমি মনে করি, এটা দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। সেটা আজ সমাধান হলে কাল থেকেই এ নিয়ে আর কেউ কথা বলবে না।

আপনি বললেন, এই সমস্যাগুলো অনেকদিন ধরে তৈরি হয়েছে। কেন তৈরি হলো সমস্যাগুলো? তার মানে কি, ক্রিকেট প্রশাসনের কাঠামো ঠিকমতো কাজ করছে না?

এভাবে আসলে উপসংহার টেনে দেওয়াটা প্রয়োজনীয় না। আমি যেটা বললাম, অনেকদিন ধরে সমস্যাগুলো জড়ো হয়েছে। পরিস্থিতি আনটেনেবেল (অসহনীয়) হয়ে গেছে। সেটা হতে হতে কেউ বা অনেকে মনে করেছে, এগুলো নিয়ে এখনই কথা বলা দরকার। সেটা ওরা বলেছে।

ক্রিকেটাররা যেসব দাবি করেছে, সেগুলো খুবই মৌলিক। এতকাল পরে এসে এসব দাবি করতে হলো কেন? এটা কী সংগঠন হিসেবে বিসিবির ব্যর্থতা নয়?

আসলে এখন আর পেছনে তাকিয়ে লাভ নেই। আমাদের এখন বরং এটা বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে যে, এই অবস্থায় কেন এলো পরিস্থিতি। এটা অবশ্যই ভেবে দেখার বিষয়। বোর্ডের অবশ্যই উচিত এটা নিয়ে আলোচনা করা।

আমি আরেকটা ব্যাপার জানতে আগ্রহী। এই বোর্ডে অনেক পরিচালক কাজ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ আছে। আপনি নিজেই কাজ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বলে শোনা গেছে। এটার সত্যতা বলবেন?

আমি এটুকু বলতে পারি যে, আমি ক্রিকেট বোর্ডেই প্রায় ৩৫-৩৬ বছর পার করে ফেললাম। ক্লাব পর্যায় মিলিয়ে চল্লিশ বছর পার করে ফেললাম সংগঠক হিসেবে। এই সময়ে আমি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছি। আমার সেই অভিজ্ঞতাটা আমি কাজে লাগাতে চাই। দেখুন, আমরা এখানে কেউ সুনীল গাভাস্কার বা ভিভ রিচার্ডস নই। বোর্ডে নাম থাকাটাই যথেষ্ট মনে করি না। আমরা এখানে কাজ করতে চাই। যার যে বিষয়ে দক্ষতা আছে, সেটা অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত। আমার ব্যাপারে আমি বলতে পারি, আমি যে কাজ পাইনি, তার কারণ হয়তো যারা কাজ পেয়েছেন, তারা যোগ্যতর। তবে এটা বলতে পারি যে, বসে থাকাটা আমার জন্য খুবই পেইনফুল।

একটা জনশ্রুতি আছে যে, বোর্ডে কয়েক জন পরিচালকই আসলে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। একজন বোর্ড পরিচালক হিসেবে আপনি এই অভিযোগ কিভাবে দেখেন?

আমি আগে যেটা বললাম, আসলে এখন যেসব অভিযোগ বা পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কথা আসছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করলেই এর উত্তর পাওয়া যাবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ