রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও, রেল লাইন না বাড়ার ফলে শিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে। তবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে সরকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ট্রেন ইলেকট্রিকের মাধ্যমে চালাতে পারি কিনা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর রেললাইন উপযুক্ত করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পদ্মা রেল লিংক প্রজেক্টে ইলেকট্রিক রেল যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে নতুন সংযোজিত অত্যাধুনিক লোকোমোটিভ সিমুলেটরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রেলপথ মন্ত্রী বলেন, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেন চালক ও লোকমাস্টারদের উন্নত প্রশিক্ষন দেয়া হবে। ফলে, সঠিকভাবে ট্রেন চালনা ও দুর্ঘটনা এড়াতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ট্রেনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সময়ক্ষেপণও বাড়ছে। কারণ সিঙ্গেল লাইনেই চলে অধিকাংশ ট্রেন। যে কারণে একটি ট্রেন অন্য ট্রেনকে সাইড দিতে সময় বেশি লাগছে। তবে বিভিন্ন রুটে ডাবল লাইন হচ্ছে। এতে আগামীতে রেলে যাতায়াতে সময়ক্ষেপণ কমবে।
তিনি আরও বলেন, রেলে চলাচলে সময়ক্ষেপণের যে সমস্যা তা দূর করার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হল, টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত পর্যন্ত ডাবল লাইন। জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডাবল লাইন। জয়দেকপুর থেকে থেকে জামালপুর পর্যন্ত ডাবল লাইন এবং চট্টগ্রাম রুটে লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এ সমস্যা সমাধান হবে।
বর্তমানে রেলের জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে রেলপথমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১-৯২ সালের দিকে ১০ হাজার রেল কর্মকর্তাকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিতাড়িত করেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকার। এরপর থেকে রেলে নতুন কোনো নিয়োগ হয়নি। দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে রেলওয়েতে। আগে যেখানে রেলে পণ্য পরিবহন হতো ৩০-৩৫ ভাগ, এখন সেখানে ১০ ভাগে নেমে এসেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত এলভারো ডি সালাস, বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত রেলের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান, অতিরিক্ত সচিব মজিবুর রহমান। এসময় রেলপথ মন্ত্রনালয়ের ও রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
