নারীনেত্রীদের দাবি

তনু-মিতুরাও বিচার পাক

নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ১৬ আসামির সবার সর্বোচ্চ সাজার রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে হত্যাসহ নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতার সব ঘটনায় দ্রুত বিচার চেয়েছেন নারী অধিকারকর্মীরা।

তারা বলছেন, চূড়ান্ত বিচার নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের এই সাজা যাতে বহাল থাকে সে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি তিন বছর আগে সোহাগী জাহান তনু ও মাহমুদা আক্তার মিতুসহ অপর হত্যাকাণ্ডগুলোর বিলম্বিত বিচার দ্রুত করতে হবে।

নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মানবাধিকারকর্মী সংসদ সদস্য আরমা দত্ত সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, এই রায় নারী নির্যাতনের একটি ঐতিহাসিক রায়। এর জন্য বিচার বিভাগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। এটি বর্তমান সময়কালের শ্রেষ্ঠ বিচার হয়েছে। এই বিচারের জন্য হয়তো লাখ লাখ মেয়ের জীবন বেঁচে যাবে। যেসব পুরুষ মনে করেন মেয়েরা ভোগের পাত্র, তাদের সঙ্গে যা খুশি করে ফেলা যাবে, পার পাওয়া যাবে তাদের জন্য একটা সতর্ক বার্তা। বিশ্বের নারী নির্যাতনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ রায়কে ‘ল্যান্ডমার্ক’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, বিশ্ব এটার রেফারেন্স নিতে পারবে।

একই ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনুু। তিনি বলেন, নুসরাত আর ফিরে আসবে না—এটা সত্য। কিন্তু অন্তত বিচারটা যে হলো এটাই স্বস্তির।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি ঝোঁপ থেকে কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর (১৯) লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। মামলাটি থানা পুলিশ হয়ে সিআইডি এর তদন্ত করছে। একই বছর ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন চট্টগ্রামে বিভিন্ন জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু। দুই হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র দিতে না পারায় শুরু হয়নি বিচার।