রাঙ্গুনিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস

নেই কোনো নিজস্ব ভবন কার্যক্রম ভাড়া বাসায়

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

রাঙ্গুনিয়ায় দীর্ঘ ৫০ বছরেও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হয়নি। প্রতিদিন জায়গা-জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল রেজিস্ট্রি সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে হলেও নিজস্ব ভবন না থাকায় ভোগান্তির শেষ নেই কর্মকর্তাসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

কাউখালী এলাকার অস্থায়ী একটি কার্যালয় থেকে স্বাধীনতার পর পোমরা ইউনিয়নের গোচরা চৌমুহনী এলাকায় ভাড়া করা একটি পাকা ভবনের নিচের তলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্থানান্তর করা হয়। এখানেও পর্যাপ্ত কক্ষ এবং প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সংরক্ষণের তেমন পরিবেশও নেই এখানে। অপ্রশস্ত কক্ষে পর্দা দিয়ে আলাদা করে কর্মচারীর কার্যালয় এবং সাব-রেজিস্ট্রারের এজলাস পৃথক স্থান করে নেওয়া হয়েছে।  নকলনবিশদের কাজ করার জন্য পরিমিত জায়গা নেই। দলিল লেখকদের জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ ও উপযুক্ত আসন ব্যবস্থা নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন তলাবিশিষ্ট একটি পাকা ভবনের নিচের তলায় মাসিক ভাড়ার রাঙ্গুনিয়া সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়। পাশে জরাজীর্ণ টিনশেডের দলিল লেখকের কার্যালয়। সাব-রেজিস্ট্রারের এজলাসে দলিল রেজিস্ট্রি কাজে ভিড় চলে। ছোট্ট একটি কক্ষে ১০/১২ জন নকলনবিশ গাদাগাদি করে রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য লিখছেন বালাম বইয়ে।

দলিল লেখক দুলাল মুন্সী বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ব্যবস্থাপনায় দলিল লেখকদের কোনো কার্যালয় নেই। নিজেদের খরচে তৈরি  টিনশেডের জরাজীর্ণ একটি কক্ষে কাজ করি আমরা দলিল লেখকরা। বর্ষার সময় ভিতরে বৃষ্টির পানি পড়ে। নোংরা পরিবেশে দলিল লেখালেখির কাজে লেখকদের চরম দুরবস্থা পোহাতে হয়। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবনের অপ্রশস্ত কক্ষে দলিল রেজিস্ট্রি কাজে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। অফিসের প্রধান সহকারী জাহাঙ্গীর আলম জানান, আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম চলে। নিজস্ব ভবন না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গুনিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রমে দুরবস্থা বিরাজ করছে। এতে জায়গা-জমির সম্পাদনকৃত বিভিন্ন দলিল রেজিস্ট্রির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষাকালে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থাকে। আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র যথাযথ সংরক্ষণ বিঘ্নিত হচ্ছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মীর ইমরুল কায়েস আলী বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় স্থায়ী ভবনের জন্য জেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে বার বার জানিয়েও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। নিজস্ব একটি ভবন তৈরির উদ্যোগ থাকলেও প্রয়োজনীয়  জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন জানিয়েও প্রয়োজনীয় সরকারি খাস জমির ব্যবস্থা হচ্ছে না। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নিজস্ব ভবন থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি খাস জমিতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস স্থাপনের ব্যবস্থা নিতে হবে।