তপন কুমার দাস, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
মৌলভীবাজারের বড়লেখার ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স প্রায়ই নষ্ট থাকায় রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। বাধ্য হয়ে রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনকে ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনের সময় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সিলেট গেলে ১ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়। আর বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়। গত ২১ অক্টোবর রাতে বিমান দাস নামের একজন তার অসুস্থ মাকে সিলেট নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স চাইলে চালক জানান অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট। পরে তিনি বাধ্য হয়ে বেসরকারি একটি অ্যাম্বুলেন্সে মাকে নিয়ে সিলেট যান। বিমান দাস বলেন, ‘জরুরি সময় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চাইলেই বলা হয় নষ্ট।’
ভোররাতে মাছুম আহমদ নামে আরেকজন তার অসুস্থ চাচাতো ভাইকে নিয়ে সিলেট যাওয়ার জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চালকের নম্বর চেয়ে পাননি। মাছুম আহমদ বলেন, ‘ভোররাতে জরুরি বিভাগে অ্যাম্বুলেন্স চালকের নম্বর চেয়েছি। পাইনি।’
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা প্রহরী মুহিবুর রহমান নানুর সঙ্গে বাইরের অ্যাম্বুলেন্স নেওয়া নিয়ে এক রোগীর স্বজনদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ঐ রোগীর স্বজনরা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল কোয়ার্টার এলাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের একটি ব্যক্তিগত অ্যামু্বলেন্স রাখা। পরিচ্ছন্নতাকর্মী মৌলা মিয়ার ডিউটি থাকলেও তিনি হাসপাতালে ছিলেন না। এদিন সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত তার ডিউটি ছিল। তার ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে তিনি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। এই ঘটনায় তাত্ক্ষণিক তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহম্মদ হোসেন বলেন, ‘চালক গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। এগুলো মেরামত প্রয়োজন। এ অবস্থায় গাড়ি ঠিক হতে আরো দুই সপ্তাহ লাগবে। যন্ত্রাংশের জন্য মাঝে মাঝে বন্ধ ছিল। তবে বেশিদিন নয়। দ্রুত কাজ করিয়ে চালু করানো হয়েছে। গাড়ি নষ্ট থাকলে নষ্ট বলার কথা। ইচ্ছাকৃতভাবে বলার কথা নয়। মানুষের চাহিদা বেশি। এজন্য অভিযোগ হচ্ছে। চালক যদি আমার অগোচরে বলে থাকে জানা নেই। আর সামর্থ্য থাকলে যে কেউ গাড়ি কিনতে পারে। তবে তার গাড়ির মূল্যের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য থাকলে কিনতে পারে। আর সামর্থ্য থেকে বেশি মূল্যের গাড়ি কিনলে প্রশ্ন আসে এত টাকা কোথা থেকে আসল? এটা আয়কর বিভাগ দেখবে। আমরা দেখব তিনি অফিস সময়ে হাজির আছেন কি না। পরিচ্ছন্নতাকর্মী মৌলা মিয়া উপস্থিত না থাকায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’