স্পোর্টস রিপোর্টার
২০১৫ সালে প্রথম জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন। সে সময় লম্বা করতে পারেননি ক্যারিয়ারটা। বা সে রকম সুযোগও পাননি। কিন্তু এই চার বছরে হাল ছেড়ে দেননি সঞ্জু স্যামসন। বরং নিজেকে আরো শক্ত ও যোগ্য করে তুলেছেন। অবশেষে বিজয় হাজারে ট্রফিতে কেরালার হয়ে এবং ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে পারফরম করে আবার এসেছেন জাতীয় দলে। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের জন্য টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পেয়েছেন।
আবার দলে ফিরে আসতে পেরে যারপরনাই খুশি স্যামসন। বলেছেন, দলে যে কোনো ভূমিকা পালন করতে রাজি আছেন তিনি, ‘আমি খুবই আনন্দিত ও রোমাঞ্চিত। আমি ভারতীয় দলে ঢোকার জন্য অনেক কঠোর পরিশ্রম করছিলাম। এই দলটা বিশ্বসেরা। দলে আমাকে যে ভূমিকাই দেওয়া হোক না কেনো, আমি খুশি থাকব। সেটা টপঅর্ডারে হোক বা মিডলঅর্ডারে।’
স্যামসন বলছেন, এই মৌসুমে তার সাফল্যের অন্যতম কারণ নির্ভয় ক্রিকেট খেলা, ‘আমার এই মৌসুমে সবচেয়ে বড়ো বদলটা ছিল, আমি আমার শক্তি অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি। আমি মাঠে প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করেছি এবং নির্ভয় ক্রিকেট খেলেছি। মৌসুম কেবল শুরু হলো। আমি এরপরও এ রকম পারফরম্যান্স করে যেতে চাই।’
এই মৌসুমে স্যামসন দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিজয় হাজারে ট্রফিতে ডাবল সেঞ্চুরি করে। সেই ইনিংসটা নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘এটা খুব বিশেষ একটা ইনিংস ছিল। ব্যাঙ্গালোরে ঐ সময় উইকেট খুব ভালো ছিল। আমি এর আগে কয়েকটা ইনিংসে ৪০-৫০ এ রকম স্কোর করছিলাম। ভালো স্ট্রাইক রেট ছিল। আমি জানতাম যে, সেঞ্চুরি করতে পারলে তারপরও অনেক ওভার থাকবে। ফলে ২০০ করা সম্ভব ছিল। আমি ঐ ইনিংসের প্রতিটা বলে কিছু করার চেষ্টা করেছি। আগের ইনিংসগুলোর চেয়ে বাড়তি কিছু করিনি।’
টি-টোয়েন্টি শুধু নয়, স্যামসনকে মনে করা হয় ওয়ানডের বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান। তিনি মনে করেন, এই কয় বছরে তার যে বদল এসেছে, তাতে তিনি ধাপে ধাপে এগোতে পারবেন, ‘আপাতত আমি টি-টোয়েন্টিতেই মন দিতে চাই। আমি যদি পারফরম করি, তাহলে নিশ্চয়ই পরের ধাপে যেতে পারব। কোনো সুযোগ এলে সেটাকে আমি গ্রহণ করতে চাই। আমি আগের চেয়ে এখন খেলাটা ভালো বুঝি। সেই সময়ের থেকে অনেক বড়ো হয়ে উঠেছি।’
আপাতত এই তরুণ ব্যাটসম্যানের স্বপ্ন জাতীয় দলের হয়ে একটা বিশ্বকাপ খেলা। সামনেই যেহেতু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ; সেটাকেই পাখির চোখ করেছেন তিনি, ‘এটা তো আমার একটা স্বপ্ন। নিজের দলের হয়ে খেলা, একটা বিশ্বকাপ খেলা, এটা একটা স্বপ্নের ব্যাপার। আমি জানি না, এটা কবে ঘটবে। তবে এটাই আমার স্বপ্ন।’