দুই কিলোমিটার ধরে কাঁচা সড়ক বেহাল

মৃধা বাজার-চৈতা ভিমনগর

শাহ্ মো. ফারুক হোসেন, মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা

একটু বৃষ্টি হলেই ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের মৃধা বাজারের উত্তর দিকে প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। এ অবস্থায় যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচলেরও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে স্কুলগামী কোমলমতি শিশুরা চরম বিপাকে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মৃধা বাজার থেকে চৈতা ভিমনগর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি কাদাপানিতে একাকার হয়ে গেছে। মেগচামী ইউনিয়নের এই সড়ক দিয়ে স্থানীয় কয়েকটি পাড়ার লোকেরা ছাড়াও পাশের বালিয়াকান্দি গ্রামের পুরাবুয়ো, খালকুলা, ভাটিপাড়া ও খাসকান্দি গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। কাদাপানিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামের কোমলমতি স্কুলশিক্ষার্থীদের। এছাড়া স্থানীয় কৃষকরাও তাদের উত্পাদিত ফসল ও পণ্য আনা-নেওয়া করতে বিপাকে পড়ছেন।

স্থানীয় একটি বেসরকারি শিশু বিদ্যালয়ের পরিচালক মো. সেলিম মোল্যা বলেন, তার স্কুলে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে। কিন্তু সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে সমস্যা হওয়ায় এদের বেশিরভাগই স্কুলে আসতে পারে না। পরিবারের শিশু ও কৃষকদের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে সড়কটি সংস্কারের জোর দাবি জানান এলাকার কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ডাবলু মোল্যা বলেন, এই সড়কের আশপাশে অনেক ভ্যান ও অটোচালক বসবাস করেন। দৈনন্দিন জীবিকার তাগিদে তাদের বের হতে হয়। কিন্তু রাস্তার যে অবস্থা তাতে এসব ভ্যান ও গাড়ি কাদায় আটকে যায়।

মেগচামী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাসান আলী খান বলেন, মেগচামী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ এখানকার গ্রামের বাসিন্দাদের যে কোনো স্কুলকলেজ থেকে শুরু করে হাসপাতাল, থানা, কোর্টকাচারি এমনকি দেশ-বিদেশের যেখানেই যাতায়াত করুক তাদের এই সড়ক দিয়েই যেতে হবে। গ্রামের কৃষকদের ফসলাদি এই সড়ক দিয়েই আনা-নেওয়া করতে হয়। এজন্য সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমি নিজে জনপ্রতিনিধি হয়ে অনেকবার সড়কটি সংস্কারের জন্য দরখাস্ত করেছি। এর মধ্যে এলজিইডি থেকে গত বছর মাত্র ৫০ ফুট এইচবিবি রাস্তার কাজ করতে পেরেছিলাম। এখনো অনেকাংশই কাঁচা।

মধুখালী উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ফরিদপুরের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার ডিপিপি প্রকল্প আসছে। আমরা এই প্রকল্পে ঐ সড়কটিসহ মেগচামী ইউনিয়নের আরো কিছু সড়ক অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছি।

মধুখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, স্থানীয়দের যেভাবে সমস্যা হচ্ছে তাতে সড়কটি দ্রুতই সংস্কার হওয়া জরুরি। আশা করছি ডিপিপি প্রকল্প পাশ হলে এ বছরের মধ্যেই তাদের এ সমস্যার সমাধান হবে।