স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
গরুর খামারের পাশাপাশি পুকুরপাড়ে বিষমুক্ত হাইব্রিড লাউ চাষ করে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে খোপাতি গ্রামের আ. হাকিম। তিনি এখন বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে এলাকায় আদর্শ সবজিচাষি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের খোপাতি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ৫০ শতক জমির পুকুরপাড়ে ডায়না হাইব্রিড (লালতীর) শত শত লাউ ঝুলছে। তার পুকুরপাড় এখন সবুজের সমারোহ। সফল লাউচাষি আ. হাকিম জানান, তার লাউ চাষের সাফল্য গাথা। তিনি দীর্ঘদিন থেকে গরুর খামারের পাশাপাশি নিজ জমির পুকুরপাড়ে আধুনিক পদ্ধতিতে মাচা (ঝাঙ্গি) করে লাউ চাষ করেছেন। এপ্রিল মাসের শুরুতে লাউ বীজ লাগিয়ে মে মাসের মাঝামাঝি লাউ ধরতে শুরু করে এবং কাটা শুরু হয়ে চলবে প্রায় জুলাই মাস পর্যন্ত। মৌসুমে তিনি গড়ে ৭৫ থেকে ১০০ লাউ বিক্রি করেছেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২০-২৫টি লাউ বিক্রয় করছেন তিনি। প্রতিটি লাউ পাইকারি দরে ১৫ টাকা করে বাজারে বিক্রি করছেন।
তিনি জানান, জমির মাচা করতে বাঁশ, তার, সুতা, সার, বীজ, কামলা বাবদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি এ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন এবং আরো ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি হবে বলে আশা করছেন। লাউ শেষ হলে সেই জাংলায় শশা চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি লাউ গাছে রাসায়নিক কীটনাশক স্প্রে করেন না। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পোকা মাকড় দমন করেন। তিনি আরো জানান, গরুর খামারের পাশাপাশি সবজি চাষ তার এখন নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আলু, পাতা কপি, ফুল কপি, ধনিয়া পাতা, বেগুন ও কলা চাষ করে থাকেন।
বর্তমানে পুকুরপাড়ে লাউ ও ক্ষেতে বেগুন আছে। তার পুকুরপাড়ে লাউ চাষে সাফল্য দেখে এলাকার কৃষকরা প্রতিনিয়ত তার কাছে পরামর্শ নিতে আসেন। সবজি চাষে সব সময় তার পাশে থাকেন স্ত্রী। গরুর খামারের পাশাপাশি বাড়ির কাছে ২০ শতক জমিতে প্রথম সবজি চাষ শুরু করেন। এখন তার আর তেমন কোনো অভাব নেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, সবজিচাষিদের যে কোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে। তিনি জানান, বৃষ্টি বেশি হলে লাউসহ অন্যান্য সবজি ফসলের ক্ষতি হয়। এ ক্ষতি পোষানো যায় না। তাই সবজি জাতীয় ফসলের বিমা করা প্রয়োজন। কৃষকদের অধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি উন্নয়নে সহজ শর্তে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা কারা প্রয়োজন। কাউনিয়া উপজেলার আ. হাকিম এখন সফল সবজিচাষি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।