রাতে পাড়া-মহল্লায় পাহারা দেবে কমিউনিটি পুলিশ

আজ উদ্যাপিত হবে কমিউনিটি পুলিশিং ডে

বিশেষ প্রতিনিধি

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাতে পাড়া মহল্লায় পাহারা দেবে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির তত্ত্বাবধানে গঠিত ৮/১০ জনের দল। আজ কমিউনিটি পুলিশ ডে পালন অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা আসছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে। সারাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০১৯ উপলক্ষ্যে প্রতিটি জেলা, রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও মেট্রোপলিটন ইউনিটে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানীতে সকাল ১০টার দিকে ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও বিশেষ অতিথি আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

 পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (কমিউনিটি পুলিশিং) সহেলী ফেরদৌস বলেন, কমিউনিটি পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৪ সালে। বর্তমানে দেশব্যাপাী কমিউনিটি পুলিশের ৬ হাজার ৯১৯টি কমিটি রয়েছে। এর সদস্য সংখ্যা ১ কোটি ১১ লাখ ৩ হাজার ৩২৮ জন। তিনি বলেন, প্রতি মাসে থানায় ওপেন হাউজ ডে আয়োজন করা হচ্ছে। ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, সমাজকে মাদকমুক্তকরণ, স্কুল, কলেজগামী ছাত্রীদের ইভটিজিং সমস্যা, যৌন হয়রানি, নারীর প্রতি সহিংসতা, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সহযোগিতায় গত এক বছরে গ্রেফতার করা হয়েছে ২৭ হাজার ১৭৩ জনকে। এছাড়া প্রতিটি থানা ওয়ার্ড পর্যায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সহযোগিতায় জঙ্গিবাদ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জঙ্গিবিরোধী সমাবেশ ও ভাড়াটিয়া তথ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং-এর কার্যক্রম শুরুর পর থেকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা বেড়েছে। আর এ সহযোগিতা আরো বেগবান করার জন্য আরো বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ৮/১০ জনের দল গঠন করে রাত্রীকালীন পাহারা, ধর্মীয় গোঁড়ামি, বিতর্কিত ফতোয়া, হিল্লাবিবাহ, বাল্যবিবাহ ইত্যাদির বিরুদ্ধে ইসলামি শিক্ষায় পণ্ডিত ব্যক্তিদের সহায়তায় জনমত সৃষ্টি করা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপেশাদারি আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগ বক্স স্থাপন এবং সেই মোতাবেক দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। চোরাচালান, খাদ্যে ভেজাল সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি । ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে সিপিএম গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার, বাসস্ট্যান্ড ইত্যাদি স্থানে নিয়মিত মাইকিং ও প্রচারণা চালানোসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ। আশা করা হচ্ছে আগামীকাল (আজ) কমিউনিটি পুলিশিং ডে অনুষ্ঠানে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়া যাবে।