এক বক্তৃতার জের

দল ও জোটে চাপে মেনন

 ‘আমিও নির্বাচিত হয়েছি, তারপরও আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি—ঐ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি, এমনকি পরবর্তীতে উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও আমার দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি।’ এই বক্তব্য দিয়ে ১৪ দলীয় জোট ও নিজ দলের ভেতরে চাপে পড়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। ১৪ দলের পক্ষে জোটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম ইতিমধ্যে বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন মেননের কাছে। অন্যদিকে, মেননের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী এবং ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর প্রবীণ সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস দল ছেড়েছেন। পলিটব্যুরোর আরো কয়েক নেতাও মেনন ও দলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার কার্যক্রমসহ দলের বর্তমান কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দলীয় ফোরামে লিখিত ভিন্নমত দাখিল করেছেন, যার কারণে মার্কসবাদ-লেলিনবাদের দলটিতে আরেক দফা ভাঙনের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।

এই অবস্থায় ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে আজ শনিবার কর্মিসভা ডাকা হয়েছে। বিকাল ৪টায় তোপখানা রোডে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠেয় এই কর্মিসভায় কার্যত দলে চলমান মত-ভিন্নমত নিয়ে কথা হবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, আগামী ২ থেকে ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওয়ার্কার্স পার্টির দশম কংগ্রেস বা জাতীয় সম্মেলন। কংগ্রেসকে কেন্দ্র করে দলে আরেক দফা ভাঙনের আশঙ্কায় উত্কণ্ঠিত দলের বেশির ভাগ নেতা-কর্মী।

ওয়ার্কার্স পার্টির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কংগ্রেসের ঠিক আগে আগে দলের কয়েকজন নেতার ভিন্নমত এবং বিমল বিশ্বাসের পদত্যাগের ঘটনা অবিচ্ছিন্ন। কার্যত একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের জের ধরেই দলের ভেতরে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন এই নেতারা। তাদের সংশয়, পার্টির সভাপতির একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের সময় দল আবারও টুকরো হতে পারে। জানা গেছে, বিমল বিশ্বাসসহ ভিন্নমত প্রদানকারী নেতারা ইতিমধ্যে পৃথক ওয়ার্কার্স পার্টি গঠনের লক্ষ্যে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করেছেন।

এ ব্যাপারে রাশেদ খান মেনন ইত্তেফাককে বলেন, ‘কংগ্রেসের আগে দলের কারো কারো এ ধরনের তত্পরতা বা ভূমিকা সন্দেহজনক। আমি মনে করি, দল ভাঙার কোনো অবকাশ নেই। তারপরও কেউ যদি সঙ্গে নেতা-কর্মীদের পেয়ে থাকেন এবং দল গঠন করতে পারেন, তাহলে দেখা যাক কী হয়। আমাদের দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে কারো ভিন্নমত নিয়ে প্রথমে সব ইউনিটে, এরপর জাতীয় কমিটির বৈঠকে এবং চূড়ান্তভাবে দলের কংগ্রেসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে বিমল বিশ্বাসের এভাবে পদত্যাগ করাটা গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি।’

নির্বাচনের ব্যাপারে করা বক্তব্য নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক সম্পর্কে রাশেদ খান মেনন আত্মপক্ষ সমর্থন করে একাধিকবার বলেছেন, গণমাধ্যমে তার খণ্ডিত বক্তব্য প্রকাশ পাওয়ায় এ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তারপরও বক্তব্যের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশও করেছেন। ১৪ দলের পক্ষ থেকে দেওয়া কারণ দর্শানো নোটিশের বিষয়ে তিনি বলেছেন, দলীয় ফোরামে আলোচনা করে তিনি চিঠির ব্যাখ্যা দেবেন।

চাপ সামলাতে রাশেদ খান মেনন গতকাল শুক্রবার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে। এছাড়া কথা বলেছেন মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গেও। মেনন ইত্তেফাককে জানান, ওয়ার্কার্স পার্টি ১৪ দলে ছিল, আছে এবং থাকবে। মেননের আশা, তার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ‘বিভ্রান্তি’র শিগিগরই নিরসন হবে।