বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন, বইছে ঠান্ডা হাওয়া

রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ স্থানে গতকাল শুক্রবারও বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও অতি ভারী বর্ষণ হয়েছে, কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হয়েছে। দিনভর এ বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ক্রমান্বয়ে এই বৃষ্টিপাত হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে রাজশাহী, রংপুর ও পঞ্চগড় অঞ্চলে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। বইছে ঠান্ডা হাওয়া। এতে অনেকেই গরম কাপড় গায়ে জড়িয়েছেন। বৃষ্টি ও ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শ্রমিকরা কাজে বের হতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতিনিধিরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শীতের আগমনি বার্তা পাওয়া যাবে। এর আগে শীতের আগমন ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই। এখন উত্তরাঞ্চলে সূর্যের আলো                 তির্যকভাবে পড়ছে। অর্থাত্ সূর্য এখন অনেকটাই দক্ষিণ দিকে সরে এসে বঙ্গোপসাগরের ওপর পড়ছে। এছাড়া মেঘমুক্ত আকাশ থাকলে বিকিরণজনিত কারণে ভোররাতের দিকে উত্তরবঙ্গের দিকে তাপমাত্রা কমে যায়। ফলে বাতাসে কিছুটা ধোঁয়াশাপূর্ণ অবস্থা তৈরি হয়। এটাকে কুয়াশা ভাবলে ভুল হবে।

রাজশাহীতে গত বুধবার রাতে যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে তা শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। টানা বৃষ্টিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে কাজের সুযোগ না পেয়ে সমস্যায় পড়েছেন দিনমজুরেরা। এদিকে বৃষ্টির কারণে রাজশাহীর উষ্ণ আবহাওয়া ইতিমধ্যে শীতল হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে হালকা ঠান্ডা বাতাস শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তি বয়ে এনেছে। বাড়তি উপার্জনের আশায় গায়ে পলিথিন জড়িয়ে বৃষ্টির মধ্যেই রিকশা ও অটোচালকেরা রাস্তায় নেমেছেন।

অন্যদিকে বৃষ্টিতে জনজীবন কিছুটা ব্যাহত হলেও আমনের ব্যাপক উপকার হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক শামসুল হক বলেন, টানা বৃষ্টিতে আমনের কোনো ক্ষতি হবে না। বরং অনেক উপকার হবে। তবে বৃষ্টির কারণে সরিষার আবাদ কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। টানা বৃষ্টির কারণে রাজশাহীর আবহাওয়া শীতল হয়েছে। বৃষ্টি শীতের আগমনি বার্তা নিয়ে এসেছে। বৃষ্টির কারণে বিকেল থেকেই বেশ ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় এবং বৃষ্টির কারণে শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। রাস্তায় মানুষের চলাচলও কম। রাস্তায় যানবাহন কম থাকায়, যারা বাইরে বের হয়েছেন, তাদের দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হয়েছে।

এবার কার্তিকেই শীত পড়তে শুরু করেছে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে। রাস্তাঘাট, বিস্তৃত ধানখেত, মাঠ-প্রান্তরেও সকালের রূপ বদলাতে শুরু করেছে। গত দু’দিন ধরে সাগরে লঘুচাপের কারণে পুরো আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে। মাঝে মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। বইছে শীতল হাওয়া। মোটরবাইক চালকেরা আগেই গরম কাপড় বের করেছেন। কুয়াশার কারণে ভোর থেকে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে যাতায়াত করছে।

হিমালয়কন্যাখ্যাত এ জেলায় সাধারণত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শীত পড়ে। কিন্তু এবার আগেভাগেই শীত এসে পড়েছে। বিকালের পর থেকেই কুয়াশার আবেশ ছড়িয়ে পড়ছে। রাতে হিমেল হাওয়া বইছে। অনেকেই লেপ-কাঁথা-কম্বল বের করেছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের শেষ রাতে ব্যবহার করতে হচ্ছে শীতের কাপড়। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই শীতকে বরণ করার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। জেলা শহরের ডোকরোপাড়া এলাকার গৃহিণী নাজমা রহমান জানান, রাতে কাঁথা নিতে হচ্ছে। গভীররাতে শিশির পড়ছে। কুয়াশাও পড়ছে।

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রধান গোলাম কিবরিয়া মুকুল  জানান, পঞ্চগড়ে ক্রমেই তাপমাত্রা কমছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকছে এবং মাঝে মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। এই বায়ু বন্ধ হলে হিমালয়ের হিম শীতল বায়ু প্রবাহিত হতে শুরু করবে। আর তখনই শীতের প্রকোপ বেড়ে যাবে।

এদিকে রংপুর বিভাগের আট জেলায় গত তিন দিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরে হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। হেমন্তের আগমনে শীত অনুভূত হচ্ছে। এ জনপদের মানুষেরা শীত নিবারণের হালকা মোটা কাপড় পড়তে শুরু করেছেন। এতে জনজীবনে কিছুটা জবুথবু অবস্থা বিরাজ করছে।

রংপুরের কুড়িগ্রাম সড়কের সিএনজিচালক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘গত তিন দিনে বৃষ্টিপাত ও হালকা শীত অনুভূতির কারণে যাত্রীশূন্য হয়ে পড়েছে। যে কারণে দৈনন্দিন পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারছি না।’ গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার কৃষক নজরুল ইসলামসহ অনেক কৃষক বলেন, শীতকালীন সবজি উত্পাদনের জন্য সম্প্রতি লালশাক, পালংশাক ও ফুলকপি বীজ বপন করা হয়েছিল। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত তিন দিনে রংপুর বিভাগে ৩৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ অবস্থা আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত থাকবে।