ভোলায় ১০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বাস-লঞ্চ চলাচল শুরু

বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গুলিতে নিহত চার জনের স্মরণে ভোলা সরকারি হাইস্কুল মাঠে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্যপরিষদের ডাকা দোয়া মাহফিলকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সর্বোচ্চ সকর্ত অবস্থানে ছিল প্রশাসন। সকাল ৬টা থেকে ভোলার অভ্যন্তরীণ সব রুটের যাত্রীবাহী বাস ও ভোলা-বরিশাল রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। তবে প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্যপরিষদ সমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করে। দিনভর বন্ধ থাকার পর বিকাল ৪টা থেকে বাস ও লঞ্চ চলাচল শুরু হয়।

এদিকে ভোলা শহর থেকে পুলিশ তিন জনকে সন্দেহজনকভাবে আটক করেছে। আটককৃতদের বাড়ি ভোলার দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন ও মনপুরা উপজেলায়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নির্দোষ প্রমাণিত হলে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্যপরিষদের যুগ্ম সচিব মাওলানা মিজানুর রহমান জানান, ইতিপূর্বে প্রশাসন মৌখিকভাবে তাদের অনুমতি দিলেও বৃহস্পতিবার রাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চিঠি দেয়। অনুমতি না পাওয়ায় তারা তাদের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চরমোনাই পীর মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমের সঙ্গে আলোচনা করে দোয়ার কর্মসূচি স্থগিত করেন।

এদিকে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভোলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। শহরে পুলিশ, র?্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড যৌথ টহল দেয়। ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, সার্বিক বিবেচনায় ভোলার পরিস্থিতি একেবারে শান্ত রয়েছে। শুক্রবার সরকারি স্কুল মাঠে একটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটির অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা ছিল। যার কারণে আমরা পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি।

ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, সকাল থেকে যাত্রীবাহী বাস ও লঞ্চ বন্ধ থাকলেও দুপুরের পর থেকে সেগুলো চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।