সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে’ নতুন একটি অভিযান শুরু করবে তুরস্ক। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান এমন কথাই বলেছেন। এদিকে ওই অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে সিরীয় সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ।
তুরস্কের কাছে ‘শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত কুর্দি বিদ্রোহী গ্রুপ পিপলস প্রটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি) ইউফ্রেটিস নদীর পূর্বদিকে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আইএসবিরোধী লড়াই করছে। তাদেরকে সহযোগিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াইপিজির নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলোর কথা উল্লেখ করে বুধবার এরদোগান বলেন, ‘বিচ্ছিন্নবাদী সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে ইউফ্রেটিসের পূর্বাঞ্চল মুক্ত করতে আমরা অল্প কয়েক দিনের অভিযান শুরু করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা কখনো আমাদের টার্গেট নয়।’ প্রসঙ্গত, ওই এলাকায় প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।
কোন এলাকাগুলোতে অভিযান চালানো হবে তুরস্কের পক্ষ থেকে তা নির্দিষ্ট করে না জানানো হলেও, এবারই প্রথম ইউফ্রেটিসের পূর্বদিকে যাচ্ছে তুর্কি বাহিনী। ওই এলাকার মানবিজ শহর থেকে ওয়াইপিজি সদস্যদের সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেছিল তুরস্ক। তবে সম্প্রতি ওই চুক্তি বাস্তবায়নে দেরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আঙ্কারা।
এরকম প্রেক্ষাপটে সিরীয় সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে তুরস্ক। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কিলিসে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে একাধিক ট্যাংক ও সামরিক যান মোতায়েন করা হয়েছে। সেগুলোকে সিরিয়ার এবিল জেলার দিকে তাক করে রাখা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সামরিক কর্মকর্তা আনাদোলুকে জানান, মূলত সিরীয় সীমান্তে থাকা সেনাদের সহায়তা করতে এই সামরিক যান মোতায়েন করা হয়েছে।