মহাসড়কে সবজির হাট যানজট-দুর্ভোগ

মিলন রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

শাজাহানপুর উপজেলার বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের ওপর সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও সোমবার এই দুই দিন হাট বসায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। মহাসড়ক দখল করে বসা হাটে ঝুঁকি নিয়ে চলছে সবজি কেনাবেচা। আটকা পড়ছে দূরপাল্লার যানবাহন। দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের। শাজাহানপুর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হাটে শীতকালীন ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা, বেগুন, পটল, ঝিঙ্গা, শসা, মুলা, বরবটি, তড়ইসহ হরেক শীতকালীন সবজির রেকর্ড আমদানি হয়েছে। চাষিরা খেত থেকে সবজি তুলে হাটে বিক্রি করতে এসেছেন। মহাসড়কের ওপরই চলছে সবজি কেনাবেচা। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে সরগরম এ সবজির হাট। মহাসড়কে হাট বসায় স্থবির হয়ে পড়েছে যানবাহন চলাচল। মহাসড়কে সবজি কিনে ট্রাকে তুলছিলেন চালক সোহেল রানা। তিনি বলেন,‘বছরজুড়ে এ হাট থেকে সবজি কিনে সিরাজগঞ্জে নিয়ে বিক্রি করি। হাটে প্রচুর সবজির আমদানি হলেও জায়গা না থাকায় মহাসড়কের ওপর চলে কেনাবেচা।’

হাটে যানজটে আটকে থাকা শ্যামলী পরিবহনের সুপারভাইজার শামিম মিয়া বলেন, ‘যানজটে ২০ মিনিট এই জায়গায় আটকে আছি। সবজির হাটের জন্যি আরো কতক্ষণ থাকা লাগবি, কেউ বলবার পারিচ্চে না।’ সবজি বিক্রেতা মানিকদীপা গ্রামের চাষি আবদুল লতিফ বলেন, বছরজুড়ে এ হাটে সবজির আমদানি হয়। শীতকালে পুরো চারমাস জুড়ে হাটে প্রচুর আমদানি। হাটের জায়গা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কের ওপর বসে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে।

চাষিরা জানান, চাইলেই বিকল্প জায়গায় সবজির বাজার গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু সড়কের ওপর বসা  এ হাট ব্যাপক পরিচিতি পাওয়ায় বিকল্প কোনো স্থানে বিক্রি কম হওয়ার আশঙ্কায় হাট সরানো হচ্ছে না। পাইকার হরমুজ মোল্লা বলেন, ‘জমি থেকে ভ্যানগাড়িতে করে এনে ভ্যানগাড়িতে রেখেই সবজি বেচে দেওয়া যাচ্ছে—এমন সুবিধা রেখে কে যাবে অন্য জায়গায়।’

হাটের ইজারাদারের টোল আদায়কারী শিহাবউদ্দিন বলেন, হাটের জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপর হাট বসাতে হচ্ছে। নয়মাইল হাটের ইজারাদার এবং বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আসাদুর রহমান বলেন, নয়মাইল হাটের নিজস্ব কোনো জায়গা না থাকলেও অনেক আগে থেকেই উপজেলা প্রশাসন ইজারা দিয়ে আসছে। এবার ২২ লাখ টাকায় হাট ইজারা নিয়েছি।  সবজির হাট বসানো ছাড়া টোল আদায়ের অন্য কোনো উত্স নেই। বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপরই সবজির হাট বসাতে হচ্ছে। বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল মালেক জানান, নয়মাইল হাটের কোনো জায়গা নেই। মহাসড়কের ওপর বসা এই হাট এতোদিন কিভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে তা জানা নেই। তবে মহাসড়ক বর্ধিত লেনে সম্প্রসারিত হচ্ছে। জায়গা বন্দোবস্ত ছাড়া আগামী বছর থেকে আর এভাবে হাট ইজারা দেওয়া সম্ভব হবে না।