স্পোর্টস রিপোর্টার
ভারত সফরের আগে সুস্থির হতে পারছে না বাংলাদেশের ক্রিকেট। ক্রিকেটারদের ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়েছে। ক্রিকেটাররা মাঠেও ফিরেছেন। তারপরও বিসিবিতে কিছুটা উত্তাপ থেকেই যাচ্ছে। ধর্মঘটের মতো এই চাপ-তাপের কেন্দ্রবিন্দুতেও সাকিব আল হাসান। ধর্মঘটের মধ্যে (গত ২২ অক্টোবর) টেলিকম কোম্পানি গ্রামীণফোনের সঙ্গে বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক চুক্তি করেছেন। এই চুক্তিই নতুন করে অনেক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অস্বস্তির হাওয়া ছড়াচ্ছে ক্রিকেটে।
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন গতকাল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রামীণফোনের সঙ্গে সাকিবের চুক্তি সম্পূর্ণ বেআইনি। এই বিষয়ে সাকিবকে এক বিন্দুও ছাড় দিবে না বিসিবি। ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে গতকাল বিসিবি সভাপতি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, প্রশ্নই আসে না।
এটুকু স্পষ্ট বোর্ডের অনুমতি ছাড়া গ্রামীণফোনের সঙ্গে চুক্তি করে নতুনভাবে বিতর্কের মুখে পড়তে যাচ্ছেন সাকিব।
নতুন স্পিন কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরির সঙ্গে দেখা করতে গতকাল বিসিবিতে এসেছিলেন বোর্ড সভাপতি। এ সময় মিরপুর স্টেডিয়ামের ইনডোর ঘুরে এসেছেন তিনি। ভারত সফরের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন হেড কোচের সঙ্গেও। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটার সাকিব। ক্রিকেটারদের প্রতি বিসিবির নির্দেশনা ছিল, টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির আগে বিসিবিকে জানাতে হবে। বিসিবির অনুমতি নিতে হবে। যার কোনোটিই মানেননি সাকিব।
জাতীয় দলের বর্তমান টাইটেল স্পন্সর ইউনিলিভার। তাদের আগে টাইটেল স্পন্সর ছিল টেলিকম কোম্পানি রবি। সেই সময় জাতীয় দলের কয়েক জন ক্রিকেটারের অন্য টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি থাকায় মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল বিসিবি। কারণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিসিবির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে সরে গিয়েছিল রবি।
এখন বোর্ডের অনুমতি ছাড়া গ্রামীণফোনের সঙ্গে চুক্তি করায় সাকিবকে নোটিশ দিচ্ছে বিসিবি। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। গ্রামীণফোনের সঙ্গে সাকিবের চুক্তি নিয়ে গতকাল বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘আমাদের আইন অনুযায়ী এটা কোনোভাবেই করার কথা নয়, করতে পারে না। এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। সেটা ঐ টেলিকম কোম্পানিও জানে, খেলোয়াড়রাও জানে। ওদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। এটি কেন করল, আগে তো ওকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। সেই কারণে ওকে আমরা চিঠি দিচ্ছি। তবে একটা ব্যাপার হলো এটি কোনোভাবেই সে করতে পারে না, সম্পূর্ণভাবে বেআইনি।’
ইউনিলিভারের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে খুব শিগগিরই। নতুন করে স্পন্সর চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিবে বিসিবি। সেক্ষেত্রে নতুন করে টেলিকম কোম্পানিগুলোকে টার্গেট করছে বিসিবি। কিন্তু দলের কোনো ক্রিকেটার টেলিকম কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে গেলে, টাইটেল স্পন্সর হিসেবে টেলিকম কোম্পানিকে পাওয়া যায় না। তাছাড়া স্পন্সরশিপের দামটাও অনেক কমে যায়। যাদের সঙ্গে ক্রিকেটাররা থাকেন, তারা আগ্রহী হয় না, তাদের সঙ্গে কয়েক জন তারকা ক্রিকেটার থাকায়। আবার অনেক কোম্পানি আসে না, সব ক্রিকেটারকে এক সঙ্গে পাওয়া যাবে না চিন্তা করে।
এদিকে গতকাল ভারত সফরের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন সাকিব। মূলত বোলিংটাই করেছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। ইনডোরের নেটে বোলিং করেন তিনি। তার আগে দলের সঙ্গে ওয়ার্মআপে অংশ নেননি। ব্যাটিং বলতে, কিছুক্ষণ নক করেছেন শুধু।