নেয়ামত উল্লাহ, চট্টগ্রাম থেকে
চট্টগ্রামের মাঠ কাঁপিয়ে হচ্ছে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ। তাতে চট্টগ্রাম আবাহনী দোর্দণ্ড প্রতাপে থাকলেও তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী চট্টগ্রাম মোহামেডান দৃশ্যপটেই নেই। তবে ক্লাবটির আশা জাতীয় ফুটবলে আবার ফিরবে তারা।
ক্লাবটির বর্তমান হালহাকিকত জানতে ক্লাবটিতে গিয়ে দেখা গেল সেটি তালাবদ্ধ। জানা গেল, ক্যাসিনোকাণ্ডের পর বেশ কিছুদিন ধরেই বন্ধ আছে ক্লাবটি। ব্যাপারটি অকপটে স্বীকার করে নেন ক্লাবের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ। তবে তিনি জানান ক্লাবের কার্যক্রম এতে মোটেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম মোহামেডানের সাধারণ সম্পাদক শাহাবউদ্দিন শামীম অবশ্য জানালেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, মূলত ক্লাবকে জুয়ার প্রভাবমুক্ত রাখতেই কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পরিবর্তন হলেই আবার স্বরূপে ফিরবে দলটি।
তিনি বলেন, ‘নাসিরাবাদ আমার বাসা। আমাদের ক্লাব হচ্ছে সদরঘাট। স্বাভাবিকভাবই স্থানীয় লোকজনের প্রভাব থাকে। সেখানে যদি আমি খুলে দেই তাহলে প্রথমে বলবে আমরা বসব, তারপর বলবে লুডু খেলব, তারপর তাস। তখন মনে হবে, এটা আমাদের কমিটি থেকেই অনুমোদন দিয়েছি। এ কারণেই মূলত কিছুদিন হলো অফিসটা বন্ধ রেখেছি আমরা।’
চট্টগ্রাম ফুটবলে প্রভাবশালী হলেও জাতীয় স্তরে সেটা কখনোই দেখাতে পারেনি চট্টগ্রাম মোহামেডান। ২০০৯ সালের প্রিমিয়ার লিগে পঞ্চম হওয়া আর সে মৌসুমের কোটি টাকার সুপার কাপের সেমিফাইনালে খেলাই হয়ে আছে ক্লাবটির সেরা সাফল্য। ২০১৭ সালে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে খেলেছিল দলটি। সে মৌসুমে অবনমিত হয়ে যাওয়ার পর আর ঢাকার ফুটবলে দেখা যায়নি ক্লাবটিকে।
তবে এ সময়ে ক্লাবটির চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার লিগের দল চট্টগ্রাম মোহামেডান ব্লুজ ঠিকই চট্টগ্রামে প্রতাপ ধরে রেখেছে। গেল মৌসুমে তৃতীয় হয়ে প্রিমিয়ার লিগ শেষ করেছিল দলটি। ঢাকার ফুটবলে না থাকার কারণ হিসেবে ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক এবং অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক দুজনেই দায়ী করলেন পৃষ্ঠপোষকের অভাবকে।
সাধারণ সম্পাদক শামীম বলেন, ‘সাম্প্র্রতিক সময়ে করপোরেট হাউজগুলো ফুটবলে ঢুকছে। যে কারণে বাজেটটা বেড়ে গেছে, আর আমরা পেছনে পড়ে গেছি। চট্টগ্রাম আবাহনীও স্পনসর পেয়েছে। যে কারণে এখনো তারা ঢাকার ফুটবলে টিকে আছে। সেখানে আমরা কোনো স্পনসর পাইনি, যে কারণে পিছিয়ে পড়েছি।’
ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক চলমান শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপেও আছেন কোঅর্ডিনেটর হিসেবে। জানালেন, ‘নিজ শহরে এত বড়ো টুর্নামেন্ট খেলতে না পারা পোড়ায় তাকে। তার ভাষ্য, ‘অবশ্যই খারাপ লাগছে। তবে আসরটির আয়োজন করছে চট্টগ্রামেরই ক্লাব, এটায় ভালো লাগছে। এই টুর্নামেন্টে খেলার লক্ষ্য আমাদের আছে। সেজন্য আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে ভালো দল গড়তে হবে।’
চট্টগ্রাম মোহামেডানের সাধারণ সম্পাদক জানালেন, পৃষ্ঠপোষক জোগাড়ের প্রক্রিয়া চলছে। সেটা হয়ে গেলে অচিরেই ঢাকা তথা পেশাদার ফুটবলেও ফিরবে তার দল।