ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ন্যায় অপেক্ষাকৃত ছোটো বিনিয়োগকারীদের জন্যও সব ধরনের সেবা এক জায়গায় পেতে ওয়ান স্টপ সেবা চালু করতে চায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। গতকাল শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক কর্মশালায় এমন উদ্যোগের কথা জানান বিসিক চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান। তিনি বলেন, ব্যবসা সহজ করার সূচকে ১০টি সেবা আছে। ওয়ান স্টপ সেবা চালু হলে এ সূচকে আমরা অনেক এগিয়ে যাব। এমন উদ্যোগকে সমর্থন করে কর্মশালার প্রধান অতিথি এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান বলেন, বিসিককেও ওয়ান স্টপ সেবার আওতায় আনা যায়। বড়ো বিনিয়োগকারীদের ন্যায় ছোটো বিনিয়োগকারীদের সমান সুযোগ দরকার। এমন উদ্যোগকে প্রধানমন্ত্রীও ইতিবাচকভাবে নেবেন। ‘এসএমই খাতের উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক ঐ কর্মশালা যৌথভাবে আয়োজন করে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নের পরিচালতি ‘প্রিজম’ প্রকল্প। এতে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল।
এ সময় বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা করার সূচকে (ডুয়িং বিজনেস) বাংলাদেশের অগ্রগতির ইস্যুটিও উঠে আসে। সালমান ফজলুর রহমান বলেন, ব্যবসা সহজ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশ্বব্যাংকের সূচকের জন্য যেভাবে করা দরকার—এমন ছোটো-খাটো কিছু কাজ করলেই সূচকে বাংলাদেশের অনেক অগ্রগতি হবে। আগামী বছর নাগাদ এই সূচকে বাংলাদেশের বড়ো অগ্রগতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ব্যবসা সহজ করার সূচকে বাংলাদেশ আট ধাপ এগিয়ে ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৬৮তম অবস্থানে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো ২০২১ সাল নাগাদ যাতে সূচকে ১০০-এর নিচে আসতে পারি।
এ সময় এসএমই খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অনুকূল পরিবেশ দরকার। গার্মেন্টসের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে অগ্রগতির পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এখন প্রয়োজন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করা। এজন্য দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রদান ও সরকারের নীতি সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিল্প সচিব আব্দুল হালিম, সরকারের পলিসিতে দেশের জাতীয় অর্থনীতিকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিসিকের অবদান ৪০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। এর মধ্যে এসএমইর অবদান হবে ২৮ শতাংশ। এ সময় তিনি পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর কেমিক্যাল খাতে শৃঙ্খলা আনতে তিনটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, এগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে। সরকার ৩ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য স্থির করেছে। এর মধ্যে এসএমই খাতের মাধ্যমে নতুন করে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান হতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফার্স্ট সেক্রেটারি ম্যানফ্রেড ফার্নহোল বলেন, বর্তমানে দেশে ৪ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। তাদের উন্নয়নে এসএমই খাত বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। কর্মশালায় এসএমই খাতের বিদ্যমান অবস্থা, সরকারের করণীয় ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিশেষজ্ঞগণ তাদের মতামত তুলে ধরেন। এসএমইর উন্নয়নে দেশে প্রিজম প্রকল্পের কার্যক্রমও তুলে ধরা হয়।