মোশাররফ-আইএসআই কর্মকর্তার অডিও ফাঁস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মেহমুদ নামে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র এক কর্মকর্তার সঙ্গে মোশাররফের টেলি কথোপকথনের সূত্র ধরে তার বিরুদ্ধে বুধবার রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এজাহার দিয়েছেন একই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন।  মোহাম্মদ আলীর অভিযোগ, আইএসআইয়ের কথিত এজেন্ট মেহমুদের সঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘বানচালের ষড়যন্ত্র’ করেন মোশাররফ হোসেন। মেহমুদ ও মোশাররফের মোবাইল ফোনে এই ষড়যন্ত্রের কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেটা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল বলে মনে করেন তিনি।

তবে মোশাররফ হোসেনের দাবি, তাকে জড়িয়ে যে কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি বানোয়াট। আইএসআইয়ের কারও সঙ্গে তার কখনও কথা হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এই দাবি করেন। মোশাররফ বলেন, ‘সমপ্রতি বিভিন্ন সোশাল মিডিয়া, অনলাইন ও গণমাধ্যমে থাইল্যান্ড ভিত্তিক পোর্টাল ট্রিবিউনের বরাত দিয়ে আমার সঙ্গে জনৈক মেহমুদের কথোপকথনের একটি বানোয়াট ফোনালাপের অডিও প্রচার করা হচ্ছে। এই অডিওটি আমার ভাবমূর্তি নষ্ট, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার কাজে বিঘ্ন ও আমাকে বিব্রত করতে রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে প্রচার করা হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত। এই অডিওটি হীন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে। মেহমুদ নামের ব্যক্তিকে আমি চিনি না।’

দাউদকান্দি থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, মোহাম্মদ আলীর অভিযোগটি তারা গ্রহণ করেছেন। তবে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে, এ কারণে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১ ও ২ আসনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন মোশাররফ হোসেন।  তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা মোহাম্মদ আলী কুমিল্লা-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুবিদ আলী ভুঁইয়ার ছেলে।

দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের নেতারা অভিযোগ করে আসছিলেন, বিএনপি-জামায়াতের নেতারা আইএসআইয়ের সঙ্গে মিলে ‘ষড়যন্ত্র’ করছেন।

অডিওতে যাকে মোশাররফ বলা হচ্ছে, তাকে ওই অডিওতে ইংরেজিতে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি জানেন... আমরা সত্যিই সংকটে আছি। আমার বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। একটি মামলায় আমার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। আমি দেশের বাইরে যেতে পারি না।’ কথোপথনের একপর্যায়ে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমি এখনো তাই আছি যা আপনারা ভাবেন। কিন্তু বাস্তবতা হল, আমার পক্ষে বাইরে এসে সরাসরি  যোগাযোগ করা সম্ভব না। আমি জানি, তা করা গেলে ভালো হত। কিন্তু আমি এখানে আপনার লোকের সাথে দেখা করতে পারি, আপনারা বার্তাটা পেতে পারেন। কিন্তু আমি আপনাদের অনুরোধ করতে চাই, আপনারা যদি আপনাদের দিক থেকে চীনের সঙ্গে কো-অপারেট করতে পারেন, বাংলাদেশে, সেটা নির্বাচনের আগে ফলপ্রসূ হত।’