রাজধানীতে ধানের শীষের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে গতকাল। প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগে সব প্রার্থী নামতে পারেননি প্রচারণায়। কোনো কোনো এলাকায় নেমেও বেশিক্ষণ থাকতে পারেন নি। ফিরে গেছেন বাসায়। আবার তেজগাঁও এলাকার প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব ইসিতে লিখিত অভিযোগে বলেছেন,তাকে পুলিশ প্রচারণায় নামতে দিচ্ছে না।
আজ শুক্রবার ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড.কামাল হোসেন পুরনো ঢাকার শ্যামপুর থেকে ধোলাইখাল চার রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল রাতে পুলিশ মৌখিক অনুমতি দিয়েও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়। নেতারা অভিযোগ করেছেন,পুলিশ ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের প্রচারণার অনুমতি দিচ্ছে না। ড.কামাল আজ থেকে ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি।
এদিকে পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে গতকাল ঢাকা-১৮ আসনে উত্তেজনাকর পরিবেশের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু করতে গিয়ে ধাওয়ার মুখে পড়েন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দুই শীর্ষ নেতা জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তারা উত্তরখানের শাহ কবীর মাজার জিয়ারতের পর সেখান থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে যান। এ সময় ঢাকা-১৮ আসনে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতাদের অভিযোগ, মাজার জিয়ারত শেষে প্রচারপত্র বিতরণ শুরু করতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন তারা। ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ঘিরে স্লোগান দিতে থাকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। একপর্যায়ে উত্তরখান থানার ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে ধাওয়া করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাজারের বিকল্প ফটক দিয়ে বের হয়ে যান আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না ও প্রার্থী শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনসহ ঐক্যফ্রন্টের অন্য নেতারা। পরে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিয়ে উত্তর খান থেকে পাঠিয়ে দেয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে আ স ম আবদুর রব বলেন, আপনারা লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করুন, নইলে শান্তিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগ বন্ধ হয়ে যাবে। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তবু এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে ঐক্যফ্রন্ট।
এদিকে ১৫ ডিসেম্বর থেকে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে প্রচারণায় যাবেন। এদিন তারা টঙ্গী থেকে প্রচারণা শুরু করবেন। যাবেন ময়মনসিংহ পর্যন্ত।