কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিত্সাসেবা

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে চিকিত্সক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর তীব্র সংকটে চিকিত্সা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মঞ্জুরিকৃত ১৯৮ জনের বিপরীতে ১২৮ জন নিয়ে চলছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বিশেষজ্ঞসহ ৩২ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও ১৯ জন ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিত্সা সেবা।

যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার মধ্যবর্তী হওয়ায় কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুত্ব অপরিসীম। পার্শ্ববর্তী যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার মনিরামপুর, কলারোয়া, তালা এবং ডুমুরিয়া উপজেলার রোগীরাও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিতে আসেন। কেশবপুরসহ পাঁচটি উপজেলার রোগীদের চিকিত্সা দিতে স্বল্প সংখ্যক চিকিত্সকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরে ৭৩ হাজার ১২০ জন রোগীকে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। আর রোগী ভর্তি করা হয়েছে ৭ হাজার ৮৮৪ জনকে। সিজার করা হয়েছে ৩৩ জনকে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় এ সময়ে অনেক রোগী ফিরে গিয়ে শহরের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে বাধ্য হন।

চিকিত্সক সংকট ছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র নিশ্চিত করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ও জুনিয়র কনসালটেন্টসহ ৩২ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ১৯ জন। ৭৮টি তৃতীয় শ্রেণির পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৩৫টি। আর চতুর্থ শ্রেণির ২২টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে নয়টি পদ। একমাত্র পাজিয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিক্যাল অফিসার থাকলেও তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে রোগীদের চিকিত্সা করানো হয়।

এছাড়াও ত্রিমোহিনী, সাগরদাড়ি, মজিদপুর, বিদ্যানন্দকাটি, মঙ্গলকোট, পাজিয়া, সুফলাকাটি ও গৌরীঘোনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সহকারী সার্জন ও স্যাকমোর ১৮টি পদের মধ্যে ১২টি পদ শূন্য রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ভুক্তভোগীদের মধ্যে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিতে আসা পাচারই গ্রামের ষাটোর্ধ্ব কাশেম মোড়ল বিরক্ত সুরে বলেন, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বক্ষণিক ডাক্তার পাওয়া যায় না। যারা আছেন তাদের পক্ষেও এত রোগীর চিকিত্সা দেওয়া অসম্ভব।

 কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হারুন-অর-রশীদ জানান, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা ১৯৮টি হলেও শূন্য রয়েছে ৭০টি পদ। যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার মধ্যবর্তী হওয়ায় এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুত্ব অপরিসীম। কেশবপুর ছাড়াও মনিরামপুর, কলারোয়া, তালা ও ডুমুরিয়া উপজেলার রোগীরাও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিতে আসেন। ডাক্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটের কথা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। আশা করা যায় আগামী মাসে বেশ কয়েকজন ডাক্তার যোগদান করবেন। তখন অনেকটা সংকট কেটে যাবে।