মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বনাঞ্চল, চা বাগান কিংবা ব্যক্তিগত টিলাসমূহেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত পাহাড়ি টিলা কেটে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হচ্ছে। এতে প্রকৃতি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ বনজঙ্গলও বিলীন হচ্ছে। টিলার উর্বর লালমাটি দিয়ে ভরাট হচ্ছে নিচু ভূমি। আবার বিক্রি করেও আর্থিক সুবিধা আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয় ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নে একটি ব্যক্তিগত পাহাড়ি টিলা কেটে সাবাড় করা হয়। কয়েকদিন ধরে ইউনিয়নের দক্ষিণ কানাইদাশী এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি টিলার প্রায় ১০ ফুটেরও বেশি উচ্চতাসম্পন্ন লালমাটি কেটে ফেলা হয়। গত ২১ অক্টোবর সোমবার বিকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে টিলাকাটা স্থল থেকে একটি ট্রাক ও মাটি কাটার কোদাল, বেলচাসহ কিছু সরঞ্জামাদি জব্দ করেন। ইসলামপুর ইউনিয়নের ইসলামাবাদ মৌজার দক্ষিণ কানাইদাশী গ্রামে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনোরূপ অনুমতি ব্যতীত ব্যক্তিগত পাহাড়ি উঁচু টিলা কাটা শুরু হয়। টিলার ১৫ শতক জায়গার ১০ শতক টিলা কেটে ফেলা হয়। আইনে নিষিদ্ধ থাকলেও প্রকাশ্যে টিলা কাটা চলছিল। অপরিকল্পিত ও পরিবেশ বিধ্বংসী এসব নানা কার্যক্রমের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে টিলাভূমিতে ধস নামছে। হুমকির মুখে পড়ছে আশপাশের বাড়িঘর। সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকা কানাইদাশী গ্রামে টিলা কাটার খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে মাটি কাটা স্থল থেকে একটি ট্রাক এবং ব্যবহূত কোদাল, বেলচাসহ কিছু যন্ত্রপাতি জব্দ করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালীরা আইনের তোয়াক্কা না করে উপজেলার পাহাড়ি বিভিন্ন টিলা কেটে নিশ্চিহ্ন করে ফেলছে। এর আগে সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানের টিলা কেটে ফেলা হয়। মাধবপুর চা বাগান সংলগ্ন পাহাড়ি টিলায় বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরির জন্য বিভিন্ন টিলা কেটে ফেলা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের উসমানগড় এলাকায় রাস্তার পাশে উঁচু টিলা কেটে ফেলা হয়। টিলার উর্বর লালমাটি স্থানীয় একটি মহল অন্যত্র বিক্রি করে আর্থিক ফায়দা লুটে নেয়। প্রকাশ্যে টিলাগুলো একের পর এক নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে। করা হয় না ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন, এমনকি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয় না। তারপরও বছর চারেক আগে শমসেরনগর দেওছড়া চা বাগানের অভ্যন্তরেও টিলার নিচু ঢালু অংশ কেটে মাছের জন্য দীর্ঘ লেক তৈরি করা হয়।
মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সৈয়দ মহসিন পারভেজসহ স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা অভিযোগ করে বলেন, প্রাকৃতিক বন, চা বাগান আর ব্যক্তিগত পাহাড়ি টিলায় ভূমির রকম পরিবর্তন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। তবে প্রভাবশালী মহল এসব কিছুই তোয়াক্কা না করে যার যার মতো টিলা কেটে ফেলছেন। এতে বন্যপ্রাণী, জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, টিলা কাটার বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ২১ অক্টোবর ইসলামপুর ইউনিয়নের কানাইদাশী এলাকায় টিলা কাটার সময় একটি ট্রাক ও মাটি কাটার সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। পরে মোটরযান আইনে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা বলেন, ২১ অক্টোবরে ইউএনওর অভিযানে টিলা কাটার ঘটনায় অভিযুক্তদের ৩ নভেম্বর অফিসে এসে হাজির হয়ে জবাব দিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।