গোবিন্দপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়

শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যায় ব্যাহত পাঠদান

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার গোবিন্দপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। ১৮৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হলেও বর্তমানে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাংলা, ভৌতবিজ্ঞান, কৃষিশিক্ষা, ধর্ম শিক্ষা, চারুকলা বিষয়ের ১০টি পদে নেই কোনো শিক্ষক। বিদ্যালয়ে মোট ২৭ শিক্ষকের পদ থাকলেও রয়েছে ১২ জন। এতে বিদ্যালয়ে পাঠদান প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮৩২ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে মাধবপুরের ধর্মঘর সড়কের পাশে দেবপুর গ্রামে তিন একর জায়গাজুড়ে মধ্যবঙ্গ বিদ্যালয় নামে বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তত্কালীন পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক সরকারের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৭ সালে নবম-দশম শ্রেণি চালু করে গোবিন্দপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নাম ধারণ করে পূর্ণাঙ্গ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়টির ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

অভিভাবক শাহনাজ আক্তার ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, মানসম্মত শিক্ষা লাভের আশায় সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করেছি, অনেক দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীরা এ বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করছে কিন্তু শিক্ষক সল্পতার কারণে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় সন্তানের ভবিষ্যত্ নিয়ে খুবই চিন্তায় আছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মো. এনামূল হক জানান, গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬০০ শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে। প্রয়োজনীয় বেঞ্চ ও চেয়ার টেবিল নেই। শিক্ষক সংকট রয়েছে প্রকট। বাংলা বিষয়ে চার জন শিক্ষক পদের বিপরীতে নেই কোনো শিক্ষক। ইংরিজ চার জনের মধ্যে আছেন তিন জন, গণিত তিন জনের মধ্যে আছেন দুই জন, ব্যবসায় শিক্ষা দুই পদের বিপরীতে আছেন এক জন, সামাজিক বিজ্ঞানের তিন জনের মধ্যে এক জন, জীববিজ্ঞান বিষয়ে দুইটি পদের মধ্যে এক জন, ইসলাম ধর্ম বিষয়ে দুইটি পদে, ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের দুইটি পদে, কৃষি শিক্ষা ও চারুকলা বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ে নেই কোনো মিলনায়তন। শ্রেণিকক্ষের সমস্যা রয়েছে। পাঁচ জন পিয়নের পদ থাকলেও মাত্র এক জন কর্মরত, অফিস সহকারী দুইটি পদের মধ্যে এক জন কর্মরত রয়েছেন। তা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ভবনগুলোর দেয়ালে ফাটলসহ বিবর্ণ হওয়ায় বিদ্যালয়টি হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য।