আগের দুটি আসর তেমন সাড়া জাগাতে না পারলেও এবার শেখ কামাল ক্লাব কাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঠের নৈপুণ্য দর্শকদের বেশ আকৃষ্ট করেছে।
বন্দর নগরী চট্টগ্রামে অনুষ্ঠানরত এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস ক্লাব ছাড়া অন্য দলগুলো প্রত্যাশিত নৈপুণ্য উপহার দিয়েছে দর্শকদের। ফলে এখানকার দর্শক খেলার টানে গ্যালারিতে এসেছে। তারা গ্রুপ পর্বের প্রত্যেকটি খেলা উপভোগ করেছে প্রাণভরে। দেশের যে দুটি দল খেলছে টুর্নামেন্টে, সে দুটি দলকে সমর্থন দিতে প্রচুর দর্শকের সমাগম ঘটেছে এম এ আজিজের গ্যালারিতে। দর্শকে কানায় কানায় ভর্তি ছিল শুক্রবার অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম আবাহনী ও কলকাতার মোহনবাগান ক্লাবের মধ্যকার খেলার দিনে। সেদিন চট্টগ্রামের দলটি রক্ষণভাগের দুর্বলতার কারণে ০-১ গোলে হারলেও দর্শক গর্জনে প্রকম্পিত ছিল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের গ্যালারি। ঐ দিনের হাউজফুল দর্শক আগে কখন দেখেছে তা আর কারো স্মরণে নেই এখন। প্রায় দুই দশক ধরে দর্শক খরা চলছিল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে। হতাশার সুরে অনেককে বলতে শোনা গিয়েছিল, দর্শকে পরিপূর্ণ হবে না আর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম। তার জবাব খেলোয়াড়, সংগঠক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ সেদিন দিতে পারেননি। কিন্তু সেটা পরিপূর্ণ করেছে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবলের চলমান তৃতীয় আসরে এসে।
এক সময় সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও বিপুলভাবে জনপ্রিয় ছিল ফুটবল। এরপর নানান কারণে খেলাটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল দর্শকরা। সম্প্রতি জাতীয় দলের বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই পর্বে কাতার ও ভারতের বিপক্ষে যে আশানুরূপ ফুটবল খেলেছে, তাই দর্শকদের আশান্বিত করেছে। এমনটাই মনে করেন স্থানীয় ফুটবল প্রেমীরা।
শেখ কামাল ক্লাব কাপ ফুটবল আসরে দর্শকের ব্যাপারে শুরুতে বেশ সংশয় ছিল। তবে সব সংশয় দূর করে গ্যালারিমুখী হন দর্শকরা। সত্তরের দশকের রেলওয়ে দলের সাবেক ফুটবলার ডেরিক রেন্ডলফ বলেন, আগের দুই আসেরর চাইতে চলতি আসরে বিভিন্ন দেশের ভালো দলগুলো এসেছে। ফলে খেলার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই দর্শক প্রত্যেকদিন মাঠে এসেছে।