মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেনকে তিন বছরের জেল দিয়েছে নিউইয়র্কের একটি আদালত। পাশাপাশি তাকে প্রায় ২০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এই প্রথম ট্রাম্পের কাছের সারির কাউকে আদালতে শাস্তি দেয়া হলো। তার বিরুদ্ধে বড় অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কংগ্রেসে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া এবং ঘুষগ্রহন। আদালতে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ কোহেন স্বীকার করে নিয়েছেন। কারাদন্ডের রায় পাওয়া কোহেন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই তাকে অন্ধকার পথে যেতে বাধ্য করেছেন। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।
কোহেন এতটাই অনুগত ছিলেন যে একবার তিনি বলেছিলেন, ট্রাম্পের জন্য তিনি গুলিবিদ্ধ হতেও রাজি। যদিও পরবর্তীতে সব অপরাধের দায় তিনি প্রেসিডেন্টের উপর চাপিয়ে দিয়ে বলেন, তার কারণেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এ কারণেই তাকে শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে অর্থ দিয়ে ট্রাম্পের পক্ষে দুই পর্ণ তারকার মুখ বন্ধ করা এবং পরে বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া, রাশিয়ায় প্রস্তাবিত ট্রাম্প টাওয়ার প্রজেক্ট নিয়ে কংগ্রেসকে মিথ্যা বলা, ঘুষ গ্রহণ করা এবং কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। বুধবার আদালতেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়েন তার সাবেক এই সহযোগী। বিচারককে তিনি বলেন, ট্রাম্প আমাকে আলোর পরিবর্তে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছেন। তার প্রতি অন্ধ ভক্তি ছিল আমার দুর্বলতা। ট্রাম্পের এসব নোংরা কাজ ধামাচাপা দেয়াকেও এক সময় আমি ‘কর্তব্য’ বলে মনে করেছিলাম।
তবে কোহেনের এই শাস্তির ব্যাপারে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য করেননি। গতকাল হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকরা তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে ‘নো কমেন্ট’ বলে চলে যান তিনি।