নিরাপদ পরিবেশে মাতৃদুগ্ধ পানের নিশ্চয়তা চেয়ে আইনি লড়াইয়ে শিশু

নিরাপদ পরিবেশে সন্তানকে বুকের দুধ পান করাতে চান মায়েরা। কিন্তু অনেক সময় পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে সেই সুযোগ হয়ে ওঠে না। ফলে ক্ষুধার জ্বালায় কান্নাকাটি করে শিশুরা। এই পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পেতে নিরাপদ পরিবেশে মাতৃদুগ্ধ পানের সুবিধা নিশ্চিতে হাইকোর্টে আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে নয় মাস বয়সী শিশু উমাইর বিন সাদী। সঙ্গী হয়েছেন তার মা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসানও।

গতকাল রবিবার মা ও সন্তানের দায়েরকৃত ওই রিট আবেদনের ওপর রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রুলে কর্মস্থল, বিমানবন্দর, বাস স্টপেজ, রেলওয়ে স্টেশন, শপিং মলে ব্রেস্ট ফিডিং ও বেবি কেয়ার কর্নার স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পাবলিক প্লেস ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার              স্থাপনে নীতিমালা তৈরি করতে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে ওই রুলে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

বাবা-মায়ের সঙ্গে কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়েছিল সাদী। ঢাকায় ফেরার জন্য সবাই কক্সবাজার বিমানবন্দরে আসে। সেখানে আসার পর ক্ষুধার চোটে কান্না জুড়ে দেয় সাদী। কিন্তু নিরাপদ পরিবেশ না থাকায় শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে পারছিলেন না তার মা ইশরাত হাসান। পরে বিমানবন্দরে নারী যাত্রীদের চেকিংয়ে দায়িত্বরত এক কর্মীকে রাজি করিয়ে সেখানে বসে শিশুসন্তানকে দুধ পান করান তিনি। ভবিষ্যতে মায়েদের এমন পরিস্থিতি এড়াতে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়।

রিটে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফি অ্যান্ড হেলথ সার্ভের (বিডিএইচএস) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের এক জরিপে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের এক-তৃতীয়াংশ শিশু খর্বকায়, আর ৩৩ শতাংশ শিশুর ওজন কম, ১৪ শতাংশ শিশু কৃশকায় (লম্বার তুলনায় ওজন খুবই কম)। এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিংয়ের যে হার ১০০ শতাংশ হওয়ার কথা, সেখানে আমাদের রয়েছে ৫৫ শতাংশ। শিশুর পুষ্টিমান নিশ্চিতে সব জায়গায় ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার চালু করা প্রয়োজন। আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী মো. আবদুল হালিম শুনানি করেন।

অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, অনেক কর্মস্থলে বা বাস, ট্রেন স্টেশনে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার না থাকায় মায়েদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নিরাপদ পরিবেশের অভাবে ও যৌন হয়রানির ভয়ে মায়েরা শিশুদের বুকের দুধ পান করাতে পারেন না। ফলে আইনি পথ ধরতে বাধ্য হয়েছেন।